শনিবার সকালে হঠাৎ দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মোবাইল ফোনটি বেজে উঠল। আচমকা সতর্কবার্তা পেলেন তাঁরা। ফোনের পর্দায় ভেসে উঠল 'এক্সট্রিমলি সিভিয়ার অ্যালার্ট' বা অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা। এই বার্তা পেয়ে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সরকারের একটি বিবৃতি থেকে জানা গিয়েছে, আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনও কারণ নেই। পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এই 'সেল ব্রডকাস্ট' প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনও মনুষ্যসৃষ্ট কোনও বিপদ থেকে মানুষকে সতর্ক করতে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যে কোনও বড় বিপদের সময় এভাবেই মাবইলে অ্যালার্ট দিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করবে সরকার। শনিবার ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় কমিউনিকেশন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া যৌথভাবে এই পরিষেবার সূচনা করেন। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বড় কোনও বিপদ থেকে সতর্ক করতেই আজ এই পরীক্ষামূলক সতর্কবার্তা লক্ষ লক্ষ নাগরিকে মোবাইলে পাঠানো হয়েছে। এদিন এই মেসেজ পেলে সাধারণ মানুষের কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘SACHET’ (ইন্টিগ্রেটেড অ্যালার্ট সিস্টেম) নামে একটি প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মটি ভারত সরকারের টেলিকম বিভাগের গবেষণা সংস্থা সি-ডট তৈরি করেছে। এটি আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার সুপারিশ মেনে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ব্যবস্থাটি কার্যকর হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৯টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় ১৩৪ বিলিয়নের বেশি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবহাওয়া সতর্কতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নতুন ‘সেল ব্রডকাস্ট’ প্রযুক্তি প্রচলিত এসএমএস ব্যবস্থার তুলনায় অনেক উন্নত। সাধারণ বার্তার মতো নয়, এই সতর্কবার্তা ফোনের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডকেও অগ্রাহ্য করে তীব্র শব্দে ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মোবাইলের স্ক্রিনের উপর স্পষ্টভাবে এই বার্তা ফুটে ওঠে।
এই ব্যবস্থা ভূমিকম্প, সুনামি, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি গ্যাস লিক বা রাসায়নিক বিপদের মতো সংকটেও জরুরি তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে চালু হলে, এটি সব ধরনের মোবাইল ফোনে একই সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারবে। যা জরুরি পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করবে।
