ফের লাল সন্ত্রাস ছত্তিশগড়ে। মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফোরণে মৃত্যু হল তিন জওয়ানের। গুরুতর আহত আরও একজন। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ছত্তিশগড়ের কাঁকের জেলায়। ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের 'মাওবাদী মুক্ত ভারতের' স্বপ্ন। যা ৩১ মার্চের মধ্যে বাস্তবায়িত করার ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। সেই সময়সীমার পার হওয়ার পর এটিই প্রথম মাও সন্ত্রাসের ঘটনা।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে নারায়ণপুর জেলার সীমান্তবর্তী ছোটবেটিয়া থানা এলাকার জঙ্গলে। এই অঞ্চলে মাওবাদীদের পুঁতে রাখা আইইডি নিষ্ক্রিয় করার উদ্দেশে অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে একটি পুঁতে রাখা আইইডি। নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করার সময় বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটে। যার জেরে আহত হন ৪ জওয়ান। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় ৩ জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আর এক জন।
বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানান, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে কাঁকের জেলা পুলিশের অভিযান চলাকালীন। আইইডি নিষ্ক্রিয় করার সময় তাতে বিস্ফোরণ ঘটে ৩ জন শহিদ হয়েছেন এবং একজন আহত।
বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানান, এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে কাঁকের জেলা পুলিশের অভিযান চলাকালীন। আইইডি নিষ্ক্রিয় করার সময় তাতে বিস্ফোরণ ঘটে ৩ জন শহিদ হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। আইজি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে কাঁকের-সহ বস্তার রেঞ্জের ৭ জেলায় পুঁতে রাখা শত শত আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ক্ষেত্রে আইইডিগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হলেও একটি ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, দেশ থেকে মাওবাদকে পুরোপুরি নির্মূল করতে ৩১ মার্চের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেইমতো গত ২ বছরে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বিরাট অভিযান চালায় কেন্দ্র। মাওবাদীদের হত্যার পাশাপাশি হাজারের বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ৩১ মার্চ মাওবাদ নির্মুলে নিজেদের সাফল্যের কথা সগর্বে ঘোষণা করেছিলেন শাহ। এরপর এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
