রাজ্যের ভোটগণনায় সরকারি কর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সংক্রান্ত খবরকে 'ভুল' বলে দাবি করলেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর দাবি, এনিয়ে সংবাদমাধ্যম ভুল খবর ছড়াচ্ছে যে তৃণমূলের আবেদন নাকি খারিজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু খবর আদৌ ঠিক নয়। কারণ, শীর্ষ আদালত এমন কিছু বলেনি বলেই সিব্বলের দাবি। তাঁর আরও দাবি, কমিশনের ওই নির্দেশটি পূর্ণাঙ্গ এবং অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়, তা দেখতে হবে। এনিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার নিন্দা করেছেন রাজ্যের আইনজীবী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল।
গণনা সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশনামায় ঠিক কী বলা হয়েছিল? গত ১৩ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তির প্রসঙ্গ টেনে সিব্বল জানান, নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছিল, র্যান্ডমাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় - উভয় সরকারি কর্মীকেই গণনার কাজে নিয়োগ করা হবে। যদি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করা হয়, তবে একই প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মীদেরও দায়িত্ব দিতে হবে বলে দাবি করেছেন কপিল সিব্বল। যুক্তি ছিল, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন রাজ্য সরকারি অফিসার থাকবে। অথচ শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের কেন রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বক্তব্য ছিল, “সার্কুলারে বলা আছে, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীও হতে পারেন। অপশন যখন আছে, তখন আমরা কীভাবে বলি যে এই পদক্ষেপ নির্দেশিকা বিরোধী? এমনকী সার্কুলার অনুযায়ী দু'জনেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী হতে পারে। আবার রাজ্য সরকারি কর্মীও হতে পারেন।” এই সওয়াল-জবাবের পর শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন নিজেদের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিটি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। এর অর্থ, ভোটগণনার দায়িত্বে কেন্দ্র ও রাজ্য - উভয় ক্ষেত্রের কর্মীরাই থাকবেন।
