ইবোলা ভাইরাস। সম্প্রতি আফ্রিকায় এই মারণ ভাইরাসের দাপাদাপি গোটা বিশ্বেরই ঘুম কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কঙ্গো থেকে মিলল সুখের খবর। দাবি, একসময় যেখানে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল এক হাজারেরও বেশি, সেখানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মোটামুটি আড়াইশোর মতো। স্বাভাবিক ভাবেই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ এই পরিসংখ্যানে বেশ খুশি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে নিশ্চিন্ত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেন এমন বলছেন তাঁরা?
এই মুহূর্তে কঙ্গোয় ৩৮০ জন আক্রান্ত। ৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ১৫ জন আক্রান্ত। একজনের মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছে। মনে রাখতে হবে, কর্তৃপক্ষ এখন আর আগের মতো কেবল 'সন্দেহভাজন' নয়, বরং নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া রোগীদের সংখ্যার বিষয়েই কথা বলছে। তাই লক্ষণযুক্তের সংখ্যার এই হ্রাস দেখে নিশ্চিন্ত হলে, এটা মনে করা ভুল হবে যে, হঠাৎ করেই কম বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে ইবোলা সংক্রমণ।
চিন্তার বিষয়, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সমস্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে না পারা। এখনও পর্যন্ত মোটামুটি ৪৫ শতাংশকে শনাক্ত করা গিয়েছে। ফলে বাকিদের থেকে আরও আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
বলা ভালো, এমন অনেক রোগীকে তালিকা থেকে বাদ দেওযা হয়েছে যাঁদের জ্বর থাকলেও তাঁরা আসলে ম্যালেরিয়ার মতো অন্য কোনও অসুখে ভুগছিলেন। যা কঙ্গোতে একটি সাধারণ সমস্যা। তবে চিন্তার বিষয়, আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা সমস্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে না পারা। এখনও পর্যন্ত মোটামুটি ৪৫ শতাংশকে শনাক্ত করা গিয়েছে। ফলে বাকিদের থেকে আরও আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা এখনও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
বলে রাখা ভালো, কঙ্গো ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আপাতত সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকলেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই। আফ্রিকার এই অঞ্চল দীর্ঘ দিন ধরেই সংঘাত, গৃহহীন দশা এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জর্জরিত। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির আবহে বহু সংক্রমণ শনাক্ত না-হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। হু-র তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইতিমধ্যেই একাধিক নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর খবর মিলেছে। রাজধানী কাম্পালাতেও পৃথক সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। এহেন পরিস্থিতিতে সতর্ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।
