মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অপরাধে রায়ান রাউথ নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ। বুধবার মার্কিন বিচার বিভাগ এই অপরাধীর সাজা ঘোষণা করে। তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা হলেও আদালতকক্ষে অনুতাপের ছায়ামাত্র ছিল না রায়ানের চোখে মুখে। সাজা ঘোষণার পর আদালতের গ্যালারির দিকে ঘুরে চোখ মারতে দেখা যায় তাঁকে।
আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরপর দু'বার ট্রাম্পকে খুনের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। প্রথম হামলা চলে ২০২৪ সালের জুলাইতে। ভরা সভায় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলি কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায় তাঁর। এই হামলার পর আততায়িকে সেখানেই গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের গলফ কোর্সে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও হামলার আগেই বন্দুক-সহ ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত। সেপ্টেম্বর মাসেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত হরেছিল আদালত। অবশেষে বুধবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হল রায়ানকে।
জিজ্ঞাসাবাদে রায়ান বলেছিলেন, "আমি ওঁকে হত্যা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম।" এমনকী কেউ ট্রাম্পকে খুন করতে পারলে দেড় লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন ওই গলফ কোর্সের আশেপাশে গুলির শব্দ শুনেছিলেন ট্রাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা। এরপরই ট্রাম্পকে নিরাপদে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় এক ঝোপের ভিতর থেকে রাইফেলের নল বেরিয়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয়। গুলি চালাতেই ঝোপের ভিতর থেকে রাইফেলধারী রায়ান সেখান থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রায় আধঘণ্টা ধরে তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। ঝোপের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ রাইফেল ও দুটি ব্যাগ।
তদন্তে জানা যায়, ট্রাম্পকে হত্যা করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে গলফ কোর্স সংলগ্ন এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারির পর জিজ্ঞাসাবাদে রায়ান বলেছিলেন, "আমি ওঁকে হত্যা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম।" এমনকী কেউ ট্রাম্পকে খুন করতে পারলে দেড় লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এজলাসে গলায় পেনের নিব ঢুকিয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন রায়ান। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
