দিল্লির ২৪ আকবর রোড। সাড়ে চার দশকের বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের সদর দপ্তরের ঠিকানা ছিল এটাই। কিন্তু গত বছরের জানুয়ারি ৯-এ কোটলা মার্গে উদ্বোধন হয় শতাব্দীপ্রাচীন দলের নতুন সদর দপ্তরের। কিন্তু আকবর রোডের বাড়িটি খালি করা হয়নি। আজও সেখানে দলীয় কার্যকলাপ সংগঠিত হয়। কিন্তু এবার শোনা যাচ্ছে, সরকারের তরফে কংগ্রেসকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শনিবারের মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে আকবর রোডের ওই বাড়ি। পাশাপাশি রাজধানীর ৫ রাইসিনা রোডে অবস্থিত যুব কংগ্রেসের দপ্তরও খালি করতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
প্রসঙ্গত, গত বছর সোনিয়া গান্ধী উদ্বোধন করেছিলেন দলের নতুন সদর দপ্তরের। কিন্তু দলের বহু বর্ষীয়ান সদস্যের একটা আত্মিক যোগ থেকেই গিয়েছিল আকবর রোডের ওই ভবনের সঙ্গে। একসময় মায়ানমারের প্রাক্তন প্রধান আং সান সু চি থাকতেন এখানে। পরবর্তী সময়ে সেটাই হয়ে ওঠে কংগ্রেসের সদর দপ্তর। গত শতকের সাতের দশকের শেষদিকে, ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয় কংগ্রেস। দল ভেঙে যায়। সেই সময় ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়োজন ছিল এমন একটি স্থান যেখান থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ চালানো যায়। সেই সময় ইন্দিরার অনুগামী রাজ্যসভার সাংসদ জি বেঙ্কটেস্বামী আকবর রোডের বাংলোটি তাঁকে দেন।
কংগ্রেসের অভাবনীয় উত্থানের 'অঙ্ক' ইন্দিরা কষেছিলেন এখান থেকেই। পরবর্তী সময়ে রাজীব গান্ধী, নরসিমহা রাও, মনমোহন সিংয়ের আমলেও এই বাংলোকেই কংগ্রেসের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখন হাত শিবিরের সদর অন্যত্র। কিন্তু ইতিহাস ছুঁয়ে থাকা আকবর রোডের বাড়ি সম্পর্কে আবেগপ্রবণ দলেরই বহু সদস্যই। এবার সেই বাড়িই ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই শোনা যাচ্ছে।
যদিও এমনটা বহুবছর ধরেই শোনা যাচ্ছে। ২০১০ সালে রুজ অ্যাভিনিউতে সদর কার্যালয় তৈরির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল কংগ্রেসকে। বলা হয়েছিল, আকবর রোডের সদর দপ্তরটি ৩ বছরের মধ্যে সেখানে স্থানান্তরিত করতে হবে। সেইমতো ২০১৩ সালেই ২৪, আকবর রোডের বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার কথা। তবে তখন তা কার্যকর হয়নি।
