দেশজুড়ে মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণার ফাঁদ। সেই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এবার সর্বশান্ত হলেন গুজরাটের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালাল অপরাধীরা। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই শিক্ষিকা গান্ধীনগরের সেক্টর ৮-এর বাসিন্দা। গত ১৬ জানুয়ারি অজানা একটি নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি দাবি করেন, শিক্ষিকার কাছে যে সিমটি রয়েছে সেটি ব্যবহার করে বেআইনি কার্যকলাপ করা হচ্ছে। এমনকী তাঁর নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পর অজয় গুপ্তা নামে এক যুবক তাঁকে ভিডিও কল করেন। তিনি নিজেকে সিবিআই আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। শিক্ষিকাকে ভয় দেখিয়ে বলেন, “বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলার তদন্তে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি উঠে এসেছে। শীঘ্রই আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে।” শুধু তা-ই নয়, ওই যুবক শিক্ষিকার হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক জাল নথিও পাঠান। তার মধ্যে ছিল সুপ্রিম কোর্টের নাম সম্বলিত একটি ভুয়ো নির্দেশনামা এবং মুম্বই পুলিশের ভুয়ো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তারপরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা মহিলাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রেখেছিল। কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের অনুমতি ছিল না। এইভাবে প্রায় এক মাস নিজের বাড়িতেই ডিজিটাল অ্যারেস্ট হয়ে ছিলেন শিক্ষিকা। এই সময়কালের মধ্যেই ক্ষেপে ক্ষেপে তাঁর কাছ থেকে ৯৯ লক্ষ টাকা অপরাধীরা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র নাম করে প্রতারণা, ক্রমশ মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে তদন্তকারীদের। কখনও সিবিআই, আবার কখনও ইডি কিংবা অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার নাম করে ফোন করার পর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সাইবার প্রতারণার থেকে বাঁচতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সচেতনতা মূলক প্রচারও করা হচ্ছে। তারপরও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র শিকার হওয়ার খবর আসতেই থাকছে।
