shono
Advertisement

Breaking News

Pahalgam Attack

সময় থমকে গেছে... বছর ঘুরলেও পহেলগাঁওয়ের স্মৃতিতে আজও শিউরে ওঠে স্বজনহারা পরিবারগুলি

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের নিশানা করে নরহত্যা চালিয়েছিল লস্করের শাখা সংগঠন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'। মর্মান্তিক সেই ঘটনা প্রাণ কেড়েছিল ২৬ জনের।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 04:14 PM Apr 20, 2026Updated: 05:45 PM Apr 20, 2026

২২ এপ্রিল ২০২৫। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের নিশানা করে নরহত্যা চালিয়েছিল লস্করের শাখা সংগঠন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'। মর্মান্তিক সেই ঘটনা (Pahalgam Attack) প্রাণ কেড়েছিল ২৬ জনের। ভয়ংকর সেই ঘটনার পর যুদ্ধের দামামা বেজেছিল দেশে। ছিল অপারেশন সিঁদুরের আস্ফালন। পাকিস্তানকে তছনছ করে নিজের পিঠ চাপড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ঘটনার একবছর পেরিয়ে গেলেও স্বজন হারানো পরিবারগুলির যন্ত্রণা এতটুকুও লাঘব হয়নি। বরং যুদ্ধ, কূটনীতি ও রাজনীতির যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়েছেন এবং আজও হচ্ছেন। সময় তাঁদের কাছে যেন থমকে গিয়েছে।

Advertisement

পরিবারগুলির দাবি, 'সেদিনের ভয়াবহতা আমাদের পক্ষে ভোলা কখনও সম্ভব নয়। সেই ক্ষত আজও টাটকা। এখনও সোশাল মিডিয়ায় কোনও বিবৃতি, পুলিশের নতুন তথ্য, এমনকী রাজনৈতিক ভাষণে অপারেশন সিঁদুরের গৌরব উসকে দেয় শোকের স্মৃতি। মানুষের মন থেকে সেই ঘটনা কার্যত মুছে গেলেও আমাদের সেই ক্ষত আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।' জঙ্গি হামলায় সেদিন মৃত্যু হয়েছিল কানপুরের ব্যবসায়ী শুভম দ্বিবেদীর। স্ত্রী ঐশন্যা চোখের সামনে স্বামীকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছিলেন। দু'মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। ঐশন্যা জঙ্গিদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন তাঁকেও মেরে ফেলার। তবে তাঁকে ছেড়ে দেয় জঙ্গিরা। বর্তমানে কানপুরের শ্যামনগরে শ্বশুরবাড়িতেই থাকেন ঐশন্যা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ''সেই ঘটনার পর জীবন যেন থেমে গিয়েছে। শুভমকে স্মরণ না করে একটি দিনও কাটে না আমার।"

ঘটনার একবছর পেরিয়ে গেলেও স্বজন হারানো পরিবারগুলির যন্ত্রণা এতটুকুও লাঘব হয়নি। বরং যুদ্ধ, কূটনীতি ও রাজনীতির যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়েছেন এবং আজও হচ্ছেন।

এখনও সরকারি প্রতিশ্রুতি পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি। তাঁদের দাবি, নিহত শুভমকে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হোক এবং ঐশন্যাকে চাকরি দেওয়া হোক। তবে যত দিন যাচ্ছে, নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ফিকে হয়ে আসছে। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ঐশন্যা ভালবাসতেন নাচ-গান। তবে জীবনের থেকে এমন ভয়ংকর আঘাত পাওয়ার পর আর সেদিকে মন দিতে পারেননি। আপাতত তাঁর একটাই লক্ষ্য 'ন্যায় বিচার'। একই অবস্থা জয়পুরের নীরজ উদওয়ানির পরিবারের। তাঁর ৭০ বছর বয়সি মা নীরজকে কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনায় আজও বাকরুদ্ধ। পরিবারের বাকি সদস্যরা তাঁর সামনে নীরজের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলেন।

সেদিন জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল গুজরাটের যতেশ পারমা ও এই পরিবারের ১৬ বছরের ছেলে সুমিত। সেই ঘটনার পর যৌথ এই পরিবার আর একসঙ্গে যাতায়াত করে না। ঝুঁকি এড়িয়ে সতর্ক জীবনযাপন করে তাঁরা। যতেশের স্ত্রী ও সুমিতের মা সেই হত্যাকাণ্ড চোখের সামনে দেখেছিলেন। আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি পরিবারটি। সেদিন জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন। একবছর পরও প্রতিটি পরিবারের যন্ত্রনা কমবেশি একই। অপারেশন সিঁদুরের গৌরব দেশবাসীর হৃদয়ের জ্বালা মেটালেও প্রিয়জনহারা পরিবারগুলি আজও যন্ত্রণার ক্ষত বুকে নিয়ে ধুঁকছেন। তাঁদের কাছে ভয়াবহ সেই সময় আজও থমকে রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement