অমানবিক, পাশবিক বললেও কম বলা হয়। প্রকাশ্যে রাস্তায় আইসক্রিম বিক্রেতার গলা কেটে খুন। তারপর নির্বিকার চিত্তে সেই কাটা মুন্ডু প্রকাশ্যে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি ফেরা। আরও নির্বিকার চিত্তে সেই কাটা মুন্ডুটিকে পাশে রেখে দিয়েই আপন মনে রান্না করা! হাড়হিম এই কাণ্ডটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বারাবাঁকি জেলার পারসোওয়াল গ্রামে।
শনিবার পাঁচদিনের মতোই গ্রামে আইসক্রিম বেচতে গিয়েছিলেন ২৫ বছরের বাবলু। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। আরও দুই ছোট ভাই রয়েছে। সংসারের একমাত্র রোজগেরে বাবলু আইসক্রিম বেচে ও অন্যান্য কায়িক শ্রমের মাধ্যমে কোনওক্রমে সংসার চালাত। শনিবার আইসক্রিম বেচতে গিয়ে কোনও কারণে গ্রামেরই বছর পঞ্চাশের প্রৌঢ় শংকর যাদবের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন বাবলু। বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটির পর আচমকা ধারালো ছুরি বের করে বাবলুর গলা ধড় থেকে আলাদা করে দেয় শংকর।
হতভম্ব হয়ে যান স্থানীয়রা। অবশ্য তাঁদের অবাক হওয়ার আর বাকি ছিল। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে না গিয়ে বাবলুর কাটা মাথাটা কুড়িয়ে নেয় শংকর। তারপর প্রকাশ্যেই সেটিকে হাতে ঝুলিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ খবর পেয়েই তড়িঘড়ি এলাকায় যায়। গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়। ধীরে ধীরে শংকর যাদবের বাড়ি ঘিরে পুলিশ আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা থ বনে যান।
পুলিশ আধিকারিকদের কথায়, অভিযুক্ত প্রৌঢ় সেসময় বাবলুর কাটা মুন্ডুটা পাশে রেখে নির্লিপ্তভাবে রন্ধনকার্যে ব্যস্ত! প্রথমে হতচকিত হয়ে গেলেও পুলিশ আধিকারিকরা নিজেদের সামলে নিয়ে শংকরকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কেন বিবাদ বেঁধেছিল বাবলুর সঙ্গে, সেটা এখনও জানা যায়নি। বাবলুর পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই শোকে বিহ্বল।
