বাংলাদেশ যাতে চরমপন্থী ও মৌলবাদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠতে না পারে সে বার্তা বারবার দিতে শোনা গিয়েছে তারেক রহমানকে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েও এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন তিনি। কিন্তু, দেশে চরমপন্থা এবং মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হয়েছে বলে একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর কথায়, "অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলি প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। জঙ্গি কার্যক্রম ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত অনেকেই সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসাবে সংসদে গিয়েছে। অর্থাৎ, দেশে আরেকটি ২০০১-'০৬ পর্বের অন্ধকার সময়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদের কালো থাবা ছড়িয়ে পড়েছে সশস্ত্র বাহিনী-সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঝেও। এটি নিঃসন্দেহে দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় বিপদ।
প্রসঙ্গত, ছ'বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে নিজ দেশে ফিরেছিলেন হাসিনা। তার ঠিক ৪৫ বছর পর ভারতে চলে আসা হাসিনার মন্তব্য, জঙ্গিবাদ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অনেককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছে, প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। একদিকে হচ্ছে। মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করায় ভূমিকা রাখা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বন্দি হচ্ছে।
দেশে চরমপন্থা এবং মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হয়েছে বলে একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, "অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলি প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।''
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করে নিষ্পেষণমূলক ও ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে ক্ষমতাসীনরা। জঙ্গিবাদ চোখ রাঙাচ্ছে। অর্থনীতি বিপর্যস্ত। একের পর এক সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। যার অন্যতম প্রমাণ দেখা যাচ্ছে মারণ রোগ হামে ভয়ংকর শিশুমৃত্যুর ঘটনা। হাসিনার দাবি, "আমরা দেশ থেকে হাম প্রায় নির্মূল করার পর্যায়ে ছিলাম। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালেই আমরা বাংলাদেশকে হামমুক্ত দেশ হিসাবে ঘোষণা করতাম। অথচ অসৎ উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিস্বার্থে অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের নতুন পদ্ধতি চালু করতে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচির বিঘ্ন ঘটায়। আর বর্তমান সরকারের অদক্ষতা ও উদাসীনতার কারণে এই রোগে মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত, মারা গিয়েছে ছয় শতাধিক শিশু। প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে এই লাশের সারি। এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি প্রশাসনিক অপরাধ।"
হাসিনার দাবি, "আমরা দেশ থেকে হাম প্রায় নির্মূল করার পর্যায়ে ছিলাম। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালেই আমরা বাংলাদেশকে হামমুক্ত দেশ হিসাবে ঘোষণা করতাম।''
শেখ হাসিনা তথা আওয়ামি লিগের অদক্ষ স্বাস্থ্যনীতির ফলে দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে বারবার বলে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ শোনা গিয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসিনার মন্তব্য, "২০২৪-'২৫ অর্থবছরে আমরা সর্বশেষ যে বাজেট পেশ করেছিলাম তাতে স্বাস্থ্যখাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছিল টিকাদান কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য। অথচ অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফ এবং হু-র সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নিয়মিত টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া বাতিল করে।" বঙ্গবন্ধু-কন্যার আরও অভিযোগ, শুধু টিকাদান কর্মসূচিই নয় পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেই তারা ধ্বংস করেছে। শিশুদের নিয়মিত 'ভিটামিন-এ' ক্যাপসুল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটানো হল? কেন হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব? বাজেটের ৪২ হাজার কোটি টাকা তাহলে গেল কোথায়? এ প্রসঙ্গে হাসিনার দাবি, "বর্তমান সরকারও এসবের তদন্ত না করে আওয়ামি লিগকে দোষারোপের নামে মিথ্যাচারে ব্যস্ত। অথচ মার্চে যখন হামের সংক্রমণ দেখা দিল তখনও যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এটার বিস্তার ঠেকানো যেত। শিশুদের অকালমৃত্যু কমিয়ে আনা যেত। কিন্তু তারা জনগণের কথা ভাবে না। শিশুদের মৃত্যু তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায় না। সবকিছুই তাদের কাছে রাজনৈতিক মিথ্যাচারের উপকরণ।”
