মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে ভারতে তেল এবং গ্যাস সরবরাহে সংকট শুরু হয়েছে। আতঙ্ক বাড়ছে আমজনতার মধ্যে। তবে এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হল, আগামী ৬০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার পরেও অন্তত ৪০টির বেশি জায়গা থেকে তেল আমদানি করছে ভারত। যুদ্ধের আগে থেকেই পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দেশের শোধনাগারগুলিতে, এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে খবর ছড়াচ্ছে সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। আমজনতা যেন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, অতিরিক্ত জ্বালানি কেনেন সেকারণে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সমস্ত পেট্রল পাম্পের পরিষেবা যথাযথ চলছে। আপাতত ৬০ দিন প্রত্যেক দেশবাসীর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। তারপরেও জ্বালানি ভাণ্ডার পূর্ণ রাখতে নানা বিকল্পের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মন্ত্রকের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলেও বিকল্প পথে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে কেনা হচ্ছে অশোধিত তেল। প্রাথমিকভাবে রান্নার গ্যাস কেনার মাত্রা খুব বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু আপাতত তা অনেকখানি কমেছে। পাইপ গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু আগামী দিনে এই পরিষেবা বাড়ানো উচিত বলেই মনে করছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জ্বালানি সংক্রান্ত ভুয়ো প্রচার চলছে সোশাল মিডিয়ায়। আমজনতা যেন ভুয়ো খবর থেকে সতর্ক থাকেন।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সংসদের উভয় কক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়েছিলেন, এখনই জ্বালানির অভাব প্রকট হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার সতর্কতা অবলম্বন করেছে। যাতে দেশে গ্যাস, জ্বালানি তেলের অভাবে জনতার সমস্যা না হয়, তার জন্য ইথানল উৎপাদনে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। যদিও বাস্তব খানিকটা আলাদা। এখনও ঘরে ঘরে এলপিজি সরবরাহ নিয়মিত হয়নি। ২৫ দিনের আগে গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না। যদিও কেন্দ্র বলছে, গ্যাস সরবরাহে আপাতত কোনও সমস্যা নেই।
