সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত সব সময়ই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র (Nuclear Weapon) ব্যবহার না করার পক্ষে। পাশাপাশি যে সব দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তাদের বিরুদ্ধে কখনওই ওই অস্ত্র ব্যবহার করবে না ভারত। বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রাষ্ট্রসংঘে এমনটাই জানিয়ে দিলেন। ভারত যে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে তাও এদিন পরিষ্কার করে দিয়েছেন শ্রিংলা। বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
ওই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হবে। সর্বজনীন প্রতিশ্রুতি এবং বহুদেশীয় চুক্তির মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা সম্ভব।’’ পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক নীতির বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। শ্রিংলা জানিয়ে দেন, ভারত পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করা এবং পারমাণবিক শক্তিহীন দেশের বিরুদ্ধে একেবারেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার পক্ষে। সারা বিশ্বে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রয়াসের অন্যতম সমর্থক ভারত।
[আরও পড়ুন: ‘সেদিন কার দেহ দাহ হয়েছিল?’ সংবাদমাধ্যমকে দেখেই হাহাকারে ভরা প্রশ্ন নির্যাতিতার দাদার]
তিনি আরও জানান, ভারত মনে করে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে তাদের বারবার বৈঠকে বসা প্রয়োজন। ২০০৭ সালে প্রথমবার হওয়া নিরস্ত্রীকরণ সম্পর্কিত বৈঠকে ভারত তাদের যে অবস্থান জানিয়েছিল এখনও সেই অবস্থানেই রয়েছে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভারত ১৯৮২ সালে প্রথমবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত এক প্রস্তাব পেশ করে। সেই সময় ভারতের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছিল বহু দেশ। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োগ যে রাষ্ট্রসংঘের নীতির লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তাও মেনে নেয় অধিকাংশ দেশই।
[আরও পড়ুন: হাথরাসের ধর্ষণ ‘ছোট ঘটনা’, বিরোধীরা ইস্যু বানাচ্ছে! বিতর্ক উসকে দাবি যোগীর মন্ত্রীর]
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস এদিনের সভায় বলেন, ‘‘গোটা বিশ্ব এখনও পারমাণবিক বিপর্যয়ের ছায়ায় রয়েছে।’’ তাঁর দাবি, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এবং পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে।