কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের। এমনটাই মত ওপেনএআই-এর কর্ণধার স্যাম অল্টম্যান। চ্যাটজিপিটি-র স্রষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে যে হারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে দিনে দিনে, তা নজরে রেখে এ দেশে ব্যবসার বিস্তার ঘটানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। এমনকি অংশীদারিত্বের পথেও হাঁটা হতে পারে বলে জানান স্যাম।
ঘটনাচক্রে, কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রোষে পড়েছিল ওপেনএআই। ভারতের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিবাদের আবহে হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকার করদাতাদের পয়সায় ভারত, চিনের মতো বিভিন্ন দেশকে এআই পরিষেবা দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি। হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন মুখ্য কৌশলী স্টিভ ব্যাননকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাভারো বলেছিলেন, “ভারত এআই ব্যবহার করবে, আর তার জন্য আমেরিকার নাগরিকেরা কেন পয়সা খরচ করবেন? চ্যাটজিপিটি আমেরিকার মাটি থেকে কাজ করছে। আমেরিকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। আর পরিষেবা দিচ্ছে ভারত, চিন এবং বাকি বিশ্বে।”
যদিও সম্প্রতি ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টানাপড়েন খানিক কমেছে। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি বাণিজ্য সমঝোতাও হয়েছে দু'দেশের মধ্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রশাসনের হুঁশিয়ারির পর ভারতের প্রশংসা করে স্যাম যে মন্তব্য করেছেন, তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
সোমবার থেকে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে 'গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬'। ওই সম্মেলনে যোগ দিতে এসে স্যাম জানিয়েছেন, ওপেনএআই-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যার নিরিখে আমেরিকার পরেই ভারত। ভারতে চ্যাটজিপিটি-র সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১০ কোটি। শুধু তা-ই নয়, সারা বিশ্বে যত পড়ুয়া চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে সাহায্য করতে পারে, সে রকম টুলও রয়েছে চ্যাটজিপিটি-র। সেটির নাম 'প্রিজম'। এই এআই টুল ব্যবহারে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।
গত বছরই নয়াদিল্লিতে নতুন দপ্তর খুলেছে ওপেনএআই। স্যাম জানিয়েছেন, ভারতের চারটি বড় শহরের বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার অন্তত ২০০ জন আধিকারিককে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এবার সরকারের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি নিয়ে সমঝোতার পথে হাঁটা হবে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওপেনএআই-এর কর্ণধার।
