ঘরের মধ্যে পড়ে মহিলার দেহ। গলায় জড়ানো রুমাল। অন্য ঘরে বসে মত্ত স্বামী। রয়েছে দুই নাবালক সন্তানও। দিল্লির সুলতানপুরীরে একটি বাড়িতে ঢুকে রীতিমতো তাজ্জব হয়ে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। খুন নাকি আত্মহত্যা করেছেন ওই মহিলা তা প্রাথমিক তদন্তে বুঝে ঠাহর করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় বাবার কীর্তি ফাঁস করল ১০ বছরের পুত্র। সে পুলিশকে জানায়, বাবা তাঁর মাকে 'খুন' করেছেন। রুমাল পেঁচিয়ে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এরপরেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কেন এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে। যেখানে সুলতানপুরীরে একটি বাড়িতে খুব ঝামেলার কথা জানানো হয়। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছান পুলিশ আধিকারিকরা। ঘরে ঢুকতেই রীতিমতো চমকে ওঠেন তাঁরা। দেখেন, ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন এক মহিলা। গলাতে জড়ানো রয়েছে একটি রুমাল। এই অবস্থায় দ্রুত ওই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে যখন ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ, সেই সময় মত্ত অবস্থায় অন্য ঘরে বসেছিলেন স্বামী অনিল। অভিযোগ, তদন্তে প্রথমে কিছুই নাকি বলতে চাননি তিনি। ফলে খুন নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে কিঞ্চিত ধোঁয়াশায় পড়ে যান দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা।
জানা যায়, ওই মহিলার দুই সন্তান। একজনের বয়স ১০ বছর আরেকজন ১৩ জন। দু'জনের মধ্যে একজন, যার বয়স ১০ সে পুলিশকে বাবার যাবতীয় কীর্তি ফাঁস করে দেয়। মৃতার পুত্র জানায়, ঝগড়ার সময়ে তাঁর মাকে ‘খুন’ করেন তাঁর বাবা। এরপরেই পেশায় গাড়ি চালক অনিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী এবং স্ত্রীয়ের মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই সূত্রেই ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
