বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সহবাস। পরে সম্পর্ক ভেঙে গেলে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা। এই ধরনের ঘটনা আজকালকার দিনে আকছার ঘটে। এবার এই ধরনের ঘটনায় লাগাম টানতে বড়সড় পর্যবেক্ষণ উত্তরাখণ্ড হাই কোর্টের। আদালত জানিয়ে দিল, দীর্ঘদিনের প্রেমে যদি কেউ শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে, তারপর সম্পর্ক ভেঙে গেলেও ধর্ষণের মামলা করা যায় না। আদালতের মতে, শুধু বিয়ে না হওয়া বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অভিযোগে ধর্ষণের মামলা দায়ের হলে, সেটাতে আইনের অপব্যবহার হতে পারে।
আসলে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির এক তরুণীর অভিযোগ ছিল, সুরজ বোরা নামের এক যুবক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রতিশ্রুতি দেন সম্পর্কের ৪৫ দিনের মধ্যে বিয়ে করবেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে রাজি হননি। ওই তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুলিশ মামলা দায়ের করে। তদন্তের পর চার্জশিটও দাখিল করা হয়। অভিযুক্ত সুরজ পালটা আদালতে দাবি করেন, ওই তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক। আর শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে তরুণীর সম্মতিতেই। ফলে এই ধরনের সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না।
সুরজের আইনজীবীদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের সমঝোতার ভিত্তিতে সুরজের সঙ্গে ওই মহিলার সম্পর্ক চলছিল। দুজনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কও হয়। কিন্তু বিয়ের প্রতিশ্রুতি যে ভুয়ো ছিল, সেটার কোনও প্রমাণ নেই। এফআইআরে কোথাও উল্লেখও নেই। সম্পর্ক ভাঙা মানেই প্রতারণা নয় এক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলা করা যায় না। পালটা অভিযোগকারীর আইনজীবীরা দাবি করেন, তরুণী শুধু বিয়ের আশ্বাসেই সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন। বিয়ে না করা মানে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা। তাছাড়া প্রতিশ্রুতি ভুয়ো কিনা সেটা তো তদন্তসাপেক্ষ।
দু'পক্ষের সওয়াল শোনার পর উত্তরাখণ্ড হাই কোর্টের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, "বিয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পর্কে গিয়ে পরে বিয়ে না করলেও প্রথম সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে যায় না। তাছাড়া ধর্ষণের অভিযোগ টিকিয়ে রাখতে হলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি যে শুরু থেকেই ভুয়ো ছিল, সেটা প্রমাণ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বারবার শারীরিক সম্পর্ক এটাই বোঝায় যে, পুরোটা সম্মতিতে হয়েছে। প্রতারণা নয়।" এক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়া উচিত নয় বলেই জানিয়ে দেয় আদালত।
