মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে ভারতের জ্বালানি সংকট কাটাতে এবার আসরে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে খোদ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার রাতে সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে আটকে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ নিরবচ্ছিন্ন রাখাটাই যে সর্বাধিক গুরত্বপূর্ণ সেটাও পেজেস্কিয়ানকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদি।
সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভারতীয়দের সুরক্ষা এবং নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে। আমরা চাই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।' উল্লেখ্য, দু'সপ্তাহের যুদ্ধের পর এই প্রথম দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম ফোনালাপ। এর আগে বিদেশমন্ত্রক স্তরে দুই দেশের কথা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছির সঙ্গে বার তিনেক কথা বলেছেন। তারপরও হরমুজ দিয়ে ভারতের পণ্যবাহী তরীর নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত সুনিশ্চিত হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছিল, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, এবং ইউরোপের সব জাহাজে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভেলুশনারি গার্ড ফোর্স। কিন্তু পরে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি সার্বিকভাবেই বন্ধ রাখা হবে।
