সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে হাতিয়ার করছে কেন্দ্র সরকার। বিরোধীদের কোণঠাসা করতে মোদি সরকারের নির্দেশেই ‘অতি তৎপর’ ইডি, সিবিআই ও এনআইএ। রবিবার এমনটাই অভিযোগ জানাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও বামেরা। এবার সেই অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের সাফ কথা, “এজেন্সি দিয়ে দেশ চালানো যায় না।”
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কিসান কল এবং বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার বেঞ্চে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলছিল। সাংবাদিকদের ডিজিটাল সামগ্রী (মোবাইল, ল্যাপটপ) বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে মামলাটি করে ‘ফাউন্ডেশন ফর মিডিয়া প্রফেশনালস’ নামের সংবাদকর্মীদের একটি সংস্থা। সংস্থার তরফে আইনজীবী ছিলেন রাহুল নারায়ণ এবং সিদ্ধার্থ আগরওয়াল। তাঁরা দু’জনেই আবেদন জানান, তদন্তকারী সংস্থাগুলো যাতে ‘ইচ্ছামতো’ সাংবাদিকদের ডিজিটাল সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করতে না পারে, তার জন্য রক্ষাকবচ দেওয়া হোক।
[আরও পড়ুন: ‘গরিবের রেশন ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র, পাপ করছে কংগ্রেস’, তোপ মোদির]
সেখানেই বিচারপতি কল বলেন, “এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ব্যাপারে অবশ্যই স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা দরকার। সাংবাদিকদের নিজস্ব ‘সোর্স’ থাকে। গোপনীয়তার অধিকার কিন্তু মৌলিক অধিকার।” বেঞ্চ আর বলে, “আপনারা চাইলে আমরা বিধি তৈরি করে দিতেই পারি। এই কাজ আপনারাই করুন।” শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, “এজেন্সিগুলো সর্বশক্তিমান হয়ে উঠলে তা খুবই বিপজ্জনক। এজেন্সি দিয়ে দেশ চালানো হবে, এমনটা হতে পারে না।”
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার, রেশন ও পুর নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে হাওয়া গরম পশ্চিমবঙ্গে। সম্প্রতি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরই আয় বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগে আয়কর দপ্তরের সপুত্র নোটিশ পেয়েছেন কারামন্ত্রী অখিল গিরি। ‘অপা কাণ্ডে’ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখনও জেলে। আর এনিয়ে শাসকদল তৃণমূলের সাফ কথা, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে হাতিয়ার করে বাংলায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নেমেছে মোদি সরকার। তাছাড়া, ইন্ডিয়া জোটকে কোণঠাসা করারা এটা একটা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। দিল্লিতেও আবগারী কাণ্ডে কেজরিওয়াল সরকারের উপর খাঁড়া ঝুলছে। সব মিলিয়ে, সেন্ট্রাল এজেন্সিগুলোই এখন গেরুয়া শিবিরের হাতিয়ার বলে বারবার অভিযোগ করছে বিরোধী দলগুলো।
