সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কর্নাটকের ভোটার তালিকা ধরেই প্রথম এই ভোটচুরির অভিযোগ করেন তিনি। এবার কংগ্রেস শাসিত সেই কর্ণাটকেই চাপের মুখে রাহুল। সরকারি সমীক্ষা বলছে মানুষের আস্থা রয়েছে ইভিএম-এ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, 'ভোটচুরি'র মত এত বড় অভিযোগের পরে বিভিন্ন নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পিছনে মূল কারণগুলির মধ্যে অন্যতম ইভিএম-এর প্রতি মানুষের এই আস্থা।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের উপর ভিত্তি করে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এই সমীক্ষায়, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) প্রতি জনগণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই ফের আক্রমণের মুখে কংগ্রেস। কংগ্রেস সরকারের সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য নিয়ে রাহুল গান্ধীকে পাল্টা আক্রমণ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
কর্ণাটকের নাগরিকদের মধ্যে ক্রয়া এই সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে, ৮৩.৬১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা মনে করেন ইভিএম বিশ্বাসযোগ্য। সামগ্রিকভাবে, ৬৯.৩৯ শতাংশ উত্তরদাতার মত ইভিএম সঠিক ফলাফল দেয়। ১৪.২২ শতাংশ দৃঢ়ভাবে একমত এই বিষয়ে।
বেঙ্গালুরু, বেলাগাভি, কালাবুর্গি এবং মাইসুরুর প্রশাসনিক বিভাগের ১০২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫ হাজার ১০০ জনের মধ্যে সমীক্ষা করা হয়েছে। কর্নাটক সরকার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা ভি আনবুকুমারের মাধ্যমে এই সমীক্ষা চালায়।
সমীক্ষার বিভিন্ন বিভাগের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ইভিএম-এ সর্বোচ্চ আস্থা দেখানো হয়েছে কালাবুরাগিতে। এখানে ৮৩.২৪ শতাংশ মানুষ একমত এবং ১১.২৪ শতাংশ মানুষ দৃঢ়ভাবে একমত যে ইভিএম নির্ভরযোগ্য। মাইসুরুতে ৭০.৬৭ শতাংশ একমত এবং ১৭.৯২ শতাংশ দৃঢ়ভাবে একমত। এছাড়াও, বেলাগাভিতে, ৬৩.৯০ শতাংশ একমত এবং ২১.৪৩ শতাংশ দৃঢ়ভাবে একমত।
জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু বিভাগে দৃঢ়ভাবে একমত সবথেকে কম মানুষ। মাত্র ৯.২৮ শতাংশ জানিয়েছেন তাঁরা দৃঢ়ভাবে ইভিএম-এর বিষয়ে একমত। যদিও, ৬৩.৬৭ শতাংশ এখনও একমত। বেঙ্গালুরুতে নিরপেক্ষ মতামত সর্বোচ্চ ১৫.৬৭ শতাংশ।
কর্নাটকের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে এই সমীক্ষার ডিজাইন ও পরিচালনাকারী সংস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এটি রাজ্য সরকারের অনুমোদিত ছিল না।
তিনি বলেন, "প্রথমত, এটি রাজ্য সরকারের অনুমোদিত নয়। স্পষ্টভাবে নির্বাচন কমিশন রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিল। বালকৃষ্ণন বা বালাসুব্রহ্মণ্যম দ্বারা পরিচালিত একটি এনজিওর সাহায্য নেওয়া হয়। যারা, যদি আমি ভুল না করি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বইয়ের লেখক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। আপনি কী আশা করেন?"
