দেশের সুরক্ষা নিয়ে রাজনীতি করেন রাহুল গান্ধী! বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। চিন সীমান্তে সফরের মধ্যেই রিজিজুর তোপ, সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে রাহুল গান্ধী কিছুই জানেন না। এই বিষয়ে তাঁর পড়াশোনা করা উচিত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি লোকসভায় প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বই থেকে কয়েকটি উক্তি তুলে ধরে কেন্দ্রকে নিশানা করেছিলেন রাহুল। সেই পদক্ষেপকেই জাতীয় সুরক্ষার বিরোধিতা বলে আখ্যা দিয়েছেন রিজিজু।
সোমবার অরুণাচল প্রদেশের বুমলা সীমান্তে গিয়েছেন রিজিজু। সেখান থেকেই লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে তুমুল কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর তোপ, "যে বইটা প্রকাশই হয়নি সেটা নিয়ে এত আলোচনা কিসের? এটা জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের উচিত সতর্কভাবে এই বিষয়ে কথা বলা। দেশের জাতীয় সুরক্ষার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে রাজনীতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিয় নয়।"
কংগ্রেস সাংসদের শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ। রিজিজুর মতে, "সীমান্ত নিয়ে রাহুল কিছুই জানেন না। সেজন্যই এমন মন্তব্য করেছেন। আমি এটুকুই বলব, ওঁর উচিত কিছুটা পড়াশোনা করা। সীমান্ত সম্পর্কে সম্যক ধারণা হওয়া উচিত।" লোকসভায় রাহুলের সুর চড়ানোকে কটাক্ষ করে রিজিজু বলেন, সংসদে এসব করার অর্থ স্রেফ সমস্যা তৈরি করা। কোনও কাজের কাজ হয় না।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী গালওয়ান সংঘাত নিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধতে নারাভানের অপ্রকাশিত বইকে হাতিয়ার করেছিলেন রাহুল গান্ধী। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নারাভানে। তাঁর ‘অপ্রকাশিত’ আত্মজীবনী ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’র কিছু অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজিনে। সেখানে লেখা হয়েছে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ট্যাঙ্ক নিয়ে কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছিল চিনের সেনা। সেনাপ্রধান তা জানানোর পরেও নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। মোদির সিদ্ধান্তহীনতাকে তোপ দাগতেই নারাভানের বইয়ের ওই অংশকে হাতিয়ার করেছেন রাহুল। কিন্তু তাঁকে বাধা দেন স্পিকার।
