সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ঘর গুছনোর আগেই সমস্যায় সিপিএম! আলিমুদ্দিনের অন্দরেই দলের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল সিপিএমের কর্মী-নেতাদের একাংশের। এবার নিজের ক্ষোভপ্রকাশ করে সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত 'বিদ্রোহী' প্রতীক উর রহমানের। সিপিএমের প্রাথমিক সদস্য পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে নেতৃত্বকে চিঠিও দিয়েছেন দলের এই তরুণ তুর্কি। চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা, গুঞ্জন। এই বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও।
কিছুদিন আগে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল মহম্মদ সেলিমের। সেই নিয়ে আসরে নেমে রীতিমতো কটাক্ষ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি নেতৃত্ব। সিপিএমের নীতি নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। এই অবস্থায় মহম্মদ সেলিমের পক্ষ নিয়ে কার্যত আসরে নেমেছিলেন সিপিএমের তরুণ মুখ, নেতা শতরূপ ঘোষ। ‘নৈতিকতার ঠেকা’ একা সিপিএম নিয়ে রেখেছে? সেই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এরপরই প্রতীক উর রহমানের সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দেখা গিয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, ‘নীতি-নৈতিকতা ছাড়া, আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’ যদিও ওই পোস্টে তিনি কারও নাম নেননি। তবে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়, তাহলে কি শতরূপের বিরুদ্ধেই সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছিলেন তিনি?
প্রতীক উর রহমান লিখেছেন, "সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
প্রতীক উর রহমান এই মুহূর্তে সিপিএমের লড়াকু মুখ বলেই পরিচিত। ময়দানে নেমে কাজ করেন সিপিএমের এই তরুণ তুর্কি। ২০২১ সালের নির্বাচনে বামেদের এই তরুণ মুখ প্রার্থী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বামপ্রার্থী হয়ে লড়াইও করেছিলেন। নির্বাচনে না জিতলেও লড়াকু মনোভাবের জন্য নজর কেড়েছেন তিনি। ছাব্বিশের নির্বাচনেও কি তাঁকে দল প্রার্থী করবে? সেই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই আবহেই দলের জনা কয়েক নেতৃত্বের আচরণ, নীতি নিয়ে তাঁর মনে ক্ষোভ জমতে থাকে বলে খবর। সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক কি সিপিএমের এই তরুণ তুর্কিকে 'বিদ্রোহী' হয়ে উঠলেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতীক উর রহমানের চিঠি।
প্রতীক উর রহমান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের উদ্দেশ্যে চিঠিতে লিখেছেন, "সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্ত আপনাকে অবগত করলাম।" প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি সরাসরি সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি?
কুণাল ঘোষ লিখেছেন, "সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম।"
এই চিঠি বিতর্ক প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ লিখেছেন, "সিপিএমের বায়োলজিকাল ফেরেব্বাজ নেতৃত্বের অংশ ও ফেসবুকের সভ্যতাহীন ফুটেজ বিপ্লবীদের দাপটে সিপিএমেরই প্রথম সারির যুবনেতাদের অবস্থা ও সিদ্ধান্ত এরকম। SFI শীর্ষনেতা, জেলা নেতা, রাজ্য কমিটির কিছু দায়িত্বে থাকা ও গত লোকসভায় ডায়মন্ডহারবারে সিপিএম প্রার্থী প্রতীক উর। সিপিএমকে সর্বস্তরে 0 তে নামানো সম্পাদক ও তাঁর কিছু অযোগ্য বাতেলাবাজের কাঠিবাজিতে এই সিদ্ধান্ত বলে খবর। চিঠির সত্যতা যাচাই করতে পারিনি। ভুল হলে ডিলিট করে দেব।"
সম্প্রতি মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক হয়েছিল হুমায়ুন কবীরের। তাহলে সিপিএম এবার নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হুমায়ুনের সঙ্গে জোট করবে? ওই বৈঠকের পরে সেই প্রশ্ন জোরালো হয়েছিল। ওই বৈঠককে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি প্রতীক উর রহমান। ঘনিষ্ঠ মহলে সেই কথা শোনাও গিয়েছিল। বামফ্রন্টের শরিকরাও ওই বৈঠককে ভালোভাবে মেনে নেয়নি বলে খবর। সেলিমের পদক্ষেপ, মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে ফ্রন্টে। এই অবস্থায় আসরে নামতে হয়েছিল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকেও। তবুও লাল শিবিরে ক্ষোভ কমছিল না বলেই খবর। সেই আবহে এবার কার্যত 'পত্রবোমা' ফাটালেন প্রতীক উর রহমান। সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেই চিঠি দিলেন।
