কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, শীঘ্রই তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এই আবহে গত রবিবার দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এবং অন্যান্য মার্কিন প্রতিনিধিরা। এই পরিস্থিতিতে শোনা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন জয়শংকর। অবশেষে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কি তাহলে কাটছে জট?
বহু আলোচনা চললেও এখনও আটকে রয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দু’পক্ষ এখনও সমঝোতায় আসতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে জয়শংকরের আমেরিকা সফর স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি করেছে। তবে একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট আনুযায়ী, বিরল খনিজ নিয়ে একটি বৈঠকে যোগ দিতেই আগামী সপ্তাহে আমেরিকায় যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরে মার্কিন কর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনা হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, মার্কিন কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপে কৃষিপণ্য, মৎস্য এবং ডেয়ারি পণ্যের ভারতীয় বাজার উন্মুক্ত করতে চায় আমেরিকা। সেই শর্তে রাজি নয় ভারত। তার ফলেই আটকে রয়েছে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি। উল্লেখ্য, ব্রিটেনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতেও এই তিনটি ক্ষেত্রের বাজার খোলেনি ভারত। তার কারণ, এই তিন ক্ষেত্রে ভারত নিজের বাজার খুলে দিলে প্রবল সমস্যায় পড়বেন দেশের কৃষকরা। যেহেতু আমেরিকার এই প্রস্তাবে ভারত রাজি নয়, তাই বাণিজ্যচুক্তি বিশ বাঁও জলে।
উল্লেখ্য, গত বছর ভারতীয় পণ্যে প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং জরিমানা আরোপ করা হয়। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনে বলেই চড়া হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে। তার পর থেকেই ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি হয়।
