মহারাষ্ট্রের নাসিকে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে অশোক খারাত নামের এক জ্যোতিষীকে নিয়ে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, জ্যোতিষচর্চার অন্তরালেই তন্ত্রের ফাঁদে ফেলে একের পর এক মহিলাকে ধর্ষণের। এবার সেই অভিযুক্তের সঙ্গে রাজ্যের মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন মাত্রা পেল বিতর্ক। নানা ছবি, ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে তাঁদের পাশাপাশি দেখা গিয়েছে। এমনকী কোনও ছবিতে রূপার ছাতা ধরা রয়েছে অভিযুক্তের মাথাতেও। দাবি উঠেছে পদত্যাগ করুন কমিশনের চেয়ারপার্সন রূপালি চাকাঙ্কার।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্টমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী যোগেশ কদমের দাবি, রূপালি অশোকের ট্রাস্টের সদস্য। এই দুইয়ের মধ্যে কোনও যোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, ''আসলে এই দুটি বিষয় ভিন্ন। যৌন নির্যাতনের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। ট্রাস্টি হিসেবে তাঁর ভূমিকার ক্ষেত্রে যদি কোনও বেআইনি কার্যকলাপ থাকে, তবে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।'' তবে কেবল রূপাই নয়, বহু খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ ও নামী ব্যক্তিত্বরাই অশোকের সংস্পর্শে এসেছেন এবং তাঁদের বাড়িতে যেতেন। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্টমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী যোগেশ কদমের দাবি, রূপালি অশোকের ট্রাস্টের সদস্য। এই দুইয়ের মধ্যে কোনও যোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
পুলিশের দাবি, ৬৭ বছরের অশোক নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা অফিসার বলে দাবি করতেন। তাই নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে। ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মহিলাদের তিনি নিজের অফিসে ডেকে আনতেন। তারপর সম্ভবত তাদের কোনও মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করতেন বলেই অভিযোগ। পাশাপাশি সবটাই রেকর্ড হয়ে যেত ঘরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায়। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি পেন ড্রাইভ পেয়েছে। তার ভিতরে নাকি ৫৮ জন মহিলার সঙ্গে জ্যোতিষী বাবাজির ‘অপকীর্তি’ ধরা পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগে থেকেই নাসিকে অশোকের ফার্মহাউসে ফাঁদ পেতেছিলেন তদন্তকারীরা। তাঁদের লক্ষ্যই ছিল হাতেনাতে ওই জ্যোতিষীকে ধরা। রাতের অন্ধকারে আচমকাই শোনা যায় ‘চোর, চোর’ চিৎকার। আসলে সেটা ছিল পুলিশদেরই ‘ফাঁদ’। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও বিস্তারিত তথ্য হাতে পেতে চাইছে পুলিশ।
