লিভ-ইন পার্টনারকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল অবসরপ্রাপ্ত এক রেলকর্মীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রমাণ লোপাট করতে দেহ পুড়িয়ে বাক্সের মধ্যে রাখা হয় বলেও অভিযোগ। চেষ্টা চলছিল বাক্সে রাখা দেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার। সেজন্য একটি গাড়িও ভাড়া করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু চালকের সন্দেহ হতেই ফাঁস হয়ে যায় সমস্ত ষড়যন্ত্র! জানা যায়, গাড়ির চালক পুলিশকে ফোন করে পুরো ঘটনা জানান। দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাক্সে রাখা দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝেই দ্রুত চম্পট দেয় অভিযুক্ত। এদিকে ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে ইতিমধ্যে অভিযুক্তের ছেলে-সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে অভিযুক্তদের খোঁজ। অন্যদিকে কেন এই খুন তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি এলাকায়। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম রাম সিং। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের দুই স্ত্রী রয়েছে। আছে সন্তানও। এরপরেও এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ওই ব্যক্তি। পুলিশের দাবি, চলতি মাসের ৮ তারিখ নৃশংসভাবে ওই মহিলাকে খুন করা হয়। এর পরে তাঁর দেহ ত্রিপলে মুড়ে একটি জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন রাম সিং। শুধু তাই নয়, পরে দেহ পুড়িয়ে বাক্সের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়। পুলিশের সন্দেহ, দেহটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার পর, প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহাংশ এবং ছাই নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল অভিযুক্ত রাম সিং।
এই বাক্সেই রাখা ছিল দেহ।
আর তা করতে গিয়েই সমস্ত পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়! পুলিশের দাবি, ওই মহিলার দেহ পড়ানোর পরেই বাক্সটি দ্বিতীয় স্ত্রীয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন রাম সিং। এক্ষেত্রে তাঁর ছেলে সাহায্য করেছিল। এমনকী এই কাজ করতে একটি গাড়িও বুক করেছিলেন অভিযুক্ত এবং তাঁর ছেলে। কিন্তু সেই বাক্স থেকে জলের মতো কিছু তরল বেরতে দেখে সন্দেহ হয় চালকের। সঙ্গে সঙ্গে গোটা ঘটনা পুলিশকে ফোন করে জানান তিনি। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। জানা যায়, অভিযুক্তের দ্বিতীয় স্ত্রীয়ের বাড়ির সামনে থেকে রহস্যময় বাক্স খুলে ওই মহিলার দেহাংশ উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃত ওই মহিলা টাকার জন্য রাম সিংকে মাঝে মধ্যেই চাপ দিতেন। যা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। আর সেই কারণেই এই খুনের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও অন্যান্য দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত রাম সিংয়ের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
