শুরু হয়ে গেল আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ? জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের একটি ড্রোনকে গুলি করে নামিয়েছে মার্কিন সেনা। অভিযোগ, আরব সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনার আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজের দিকে আগ্রাসী মেজাজে ধেয়ে আসছিল ইরানের শাহিদ ১৩৯ ড্রোনটি। মার্কিন সেনার কথায়, ওই ড্রোনের উদ্দেশ্য নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল। তারপরেই সেটি ধ্বংস করা হয়। প্রশ্ন উঠছে, ইরান কি এই ঘটনার পালটা দেবে? সেখান থেকেই কি যুদ্ধে জড়াবে দুই দেশ?
সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধেয় আরব সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোনটিকে ছুটে আসতে দেখা যায়। ইরানের এই ড্রোনের গতিবিধি অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল বলেই মার্কিন সেনার দাবি। সেকারণেই ড্রোনটি দেখামাত্র সেটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন বায়ুসেনার এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান। ইরানের সীমান্ত থেকে ৫০০ মাইল দূরে ড্রোনটি ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন সেনা বা পরিকাঠামোর কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। তবে গোটা ঘটনায় তেহরান এখনও চুপ।
উল্লেখ্য, রয়টর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী গত শুক্রবার পেন্টাগনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের গোপন বৈঠক হয়। দফায় দফায় হুঁশিয়ারির পর এবার তেহরানের মাটিতে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসাবেই এই বৈঠককে দেখছিল ওয়াকিবহাল মহল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন ও ইজরায়েলের সেনার ‘চিফ অফ স্টাফ’ আয়ল জমির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের শীর্ষ সেনাকর্তারা। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি।
শুধু তাই নয়, জমির ওয়াশিংটন থেকে ফেরার পর দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সেরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, তেল আভিভে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ, জমির, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরিনতির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতেই জমিরের সঙ্গে এই বৈঠক করা হয়। বৈঠকের কয়েকদিন পরেই আমেরিকার হাতে ধ্বংস হল ইরানি ড্রোন।
