লাগাতার অভিযান চালিয়েও বালোচ বিদ্রোহীদের এখনও বাগে আনতে পারেনি পাকিস্তান। ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার জন্যই তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। পাশাপাশিই তাঁর দাবি, মার্কিন অস্ত্র দিয়ে লড়ছেন বালোচ বিদ্রোহীরা। তাঁদের হাতে রয়েছে ২০ লাখি রাইফেল, উন্নতমানের নাইটভিশন যন্ত্রও।
পাক আইনসভার নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বালোচিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন আসিফ। সেখানে বালোচ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে পাক সেনাকে কী কী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, সে ব্যাপারে জানান তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "ভৌগোলিক ভাবে বালোচিস্তান পাকিস্তানের ৪০ শতাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা একটা জনবহুল শহরকে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত। আমাদের সেনারা সেখানে রয়েছে এবং তারা তাদের (সন্ত্রাসবাদী) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে। কিন্তু তারা এত বড় একটা এলাকা পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী।"
শুধু তা-ই নয়, এই লড়াইয়ে বালোচ বিদ্রোহীদের বিদেশি শত্রুরাও সাহায্য করছে বলে দাবি করেছে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর দাবি, উন্নতমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বালোচ বিদ্রোহীরা। এমন অস্ত্র যা পাক সেনার কাছেও নেই! প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথায়, "ওদের কাছে ২০ লাখ টাকার রাইফেল রয়েছে। আমাদের কাছেও এমন রাইফেল নেই। ওদের কাছে চার-পাঁচ হাজার ডলারের থার্মাল যন্ত্রও রয়েছে। এমন মিলিটারি গিয়ার রয়েছে, যার দাম ২০ হাজার ডলার। এগুলি আসছে কোথা থেকে? কারা এই সব অস্ত্রের জন্য টাকা দিচ্ছে?" আসিফের দাবি, বালোচ বিদ্রোহীদের হাতে যে সব অস্ত্র রয়েছে, তা আদতে মার্কিনি অস্ত্র। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, "এই বিদ্রোহীদের নেতারা আফগানিস্তানের লোক। ওখান থেকে ওরা যাবতীয় সাহায্য পাচ্ছে।"
গত কয়েক দিনে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান। এই প্রদেশের বিভিন্ন স্কুল, ব্যাঙ্ক এবং সামরিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে এমন ১২টি জায়গায় হামলার অভিযোগ ওঠে। তাতে উঠে আসে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ-র নাম। এই প্রদেশে ঘাঁটি রয়েছে আর এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এরও।
