মা'কে খুনের দায়ে বাবা জেলবন্দি। মামা বাড়ি থাকছিল দুই কিশোরী বোন। সেখানে বড় মামার যৌন লালসার শিকার বড় বোন। থানায় ধর্ষণের অভিযোগ জানিয়েছে নাবালিকা। পাশাপাশি দুই মামার বিরুদ্ধে ছোট বোনকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতা। ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে।
১৭ বছর নাবালিকা তার অভিযোগে জানিয়েছে, গত বছর গরমের ছুটির পর সে ও তার ১৬ বছর বয়সি বোন উত্তরপ্রদেশেরই বরখেরা থানা এলাকায় তাদের মামা বাড়িতে ঘুরতে যায়। গত জুলাই মাসের ৩ তারিখ দু'বোন জানতে পারে, তাদের মাকে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাবা। আত্মীয়রা দুই কিশোরীকে মামা বাড়িতেই রেখে যান। সেখানেই থাকছিলেন তারা। অভিযোগ, তারপরই দু'জনের উপর অত্যাচার শুরু হয়।
কিশোরী অভিযোগে আরও জানিয়েছে, ধর্ষণের পর দুই অভিযুক্ত কিশোরীকে স্থানীয় পুলিশ সুপারের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে বয়ান দিতে বাধ্য করে যে, সে নিজের ইচ্ছায় বাবার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। নির্যাতিতার অভিযোগ, এই বয়ান না দিলে তার ছোট বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাকে।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে এক রাতে সে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। অভিযোগ তখন তার বড় মামা ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। ছোট মামা গেট পাহাড়া দিয়েছিল। কিশোরীর আরও অভিযোগ, গত বছর সেপ্টেম্বর মাস দু'মামা তার ছোট বোনকে কোথাও নিয়ে যায়। তারপর থেকে আর বোনের খোঁজ পায়নি নির্যাতিতা। নির্যাতিতার দাবি, তার বোনকে নিয়ে মামাদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথা বলতে শুনেছে সে। অভিযোগে জানিয়েছে, 'ওই ঘটনার পর আর বোনের খোঁজ পাইনি।'
কিশোরী অভিযোগে আরও জানিয়েছে, ধর্ষণের পর দুই অভিযুক্ত কিশোরীকে স্থানীয় পুলিশ সুপারের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে বয়ান দিতে বাধ্য করে যে, সে নিজের ইচ্ছায় বাবার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। নির্যাতিতার অভিযোগ, এই বয়ান না দিলে তার ছোট বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাকে। বাড়ি ফিরে এসে নির্যাতিতা বিষয়টি জানিয়েছিল আত্মীয়দের। কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করেনি বলে দাবি। তাই সে একাই গত শুক্রবার বিকেলে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
বারখেরা থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, "অভিযোগকারীর বাবার বিরুদ্ধে বোনকে খুনের অভিযোগ তুলেছে তার এক মামা। এখন দুই মামার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নাবালিকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর বয়সের প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে নাবালিকা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্ত শুরু হয়েছে।" এদিকে নির্যাতিতার অভিযোগ অনুসারে, তার ছোট বোনের খোঁজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
