স্বামীর কাছে খোরপোশ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন স্ত্রী, এমনটা হামেশাই ঘটে। কিন্তু বউমার কাছে 'খোরপোশ' চেয়ে বসলেন শ্বশুর-শাশুড়ি! কেবল দাবি করা নয়, সটান মামলা ঠুকে দিলেন আদালতে। বৃদ্ধ দম্পতির কথায়, বউমা যথেষ্ট উপার্জন করেন। তাই শ্বশুর-শাশুড়িকে প্রত্যেক মাসে কিছু অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেই পারেন। এহেন আর্জি শুনে আইনজ্ঞদের মনে প্রশ্ন, ভারতের আইনে কি এমন কোনও ব্যবস্থা রয়েছে?
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। সম্প্রতি এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন এক বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁরা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে বিয়ে হয় তাঁদের ছেলের। তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তারপর কনস্টেবলের চাকরি পান দম্পতির বউমা। তাই এখন দম্পতি চাইছেন, তাঁদের ভরণপোষণের ভার নিক পুত্রবধূ। সেই আবেদন নিয়েই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু গতবছর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। পরে তাঁরা আবেদন করে এলাহাবাদ হাই কোর্টে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৪৪ ধারার আওতায় তাঁরা মামলা দায়ের করেন।
বছরদুয়েক আগেও এই একইভাবে বউমার কাছে ভরণপোষণ দাবি করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক দম্পতি। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের কোনও উপার্জন নেই তাই বউমাকেই ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে।
১৪৪ ধারা অনুযায়ী আদালত কোনও ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারে, তিনি যেন মা-বাবা, স্ত্রী এবং সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। কিন্তু ওই আইনের আওতায় শ্বশুর-শাশুড়িকে রাখা হয়নি। সেই ইস্যুটিই তুলে ধরেন বিচারক। তিনি জানান, নীতিগতভাবে বউমার উচিত শ্বশুর-শাশুড়ির দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া। কিন্তু আইনিভাবে কাউকে এই নিয়ে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত। নৈতিক দিক থেকে যতই প্রয়োজনীয় হোক না কেন, আদালতের পক্ষে শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণের দায়িত্বগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রবীণ দম্পতির দাবি, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা একেবারেই নেই। বর্তমানে তাঁদের পুত্রবধূ যে চাকরি করেন, সেটা ছেলের মৃত্যুর কারণেই মিলেছে বলে জানান তাঁরা। কিন্তু আদালত এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, বছরদুয়েক আগেও এই একইভাবে বউমার কাছে ভরণপোষণ দাবি করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক দম্পতি। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের কোনও উপার্জন নেই তাই বউমাকেই ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। সেবারও শ্বশুর-শাশুড়ির আবেদন খারিজ করেছে আদালত।
