ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে মাইলেজ কমছে, ক্ষতি হচ্ছে গাড়ির। গত কয়েকমাস ধরে বারবার প্রকাশ্যে এসেছে এহেন অভিযোগ। গোটা ঘটনায় এবার সংসদে দাঁড়িয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়করি। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছেন, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা মাইলেজ কমে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি কোনও পরীক্ষায়। লিখিতভাবে এই বিষয়টি সংসদে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে।
দিনকয়েক আগেই এক সাংবাদিক দাবি করেন, সরকার-নির্ধারিত ই-২০ পেট্রল ব্যবহারের পর তাঁর গাড়ি মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাবে গড়করি দাবি করেছিলেন, সাধারণ গাড়ি-মালিকরা গাড়ির মাইলেজ সঠিকভাবে পরিমাপ করতে পারেন না। অনুমোদিত ডিলারদের করা পরীক্ষার উপরই তাঁদের নির্ভর করা উচিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, “আপনি বা আমি গাড়ির মাইলেজ পরীক্ষা করতে পারব না। গাড়ির মাইলেজ কেবল সংস্থার অনুমোদিত ডিলার নির্দিষ্ট মেশিন ব্যবহার করেই করতে পারে।”
এবার সংসদে দাঁড়িয়ে গড়করি স্পষ্ট জানালেন, ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহার করলে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মাইলেজ কমে, এমনটা কোনও পরীক্ষাতেই ধরা পড়েনি। ল্যাব টেস্টিং, ফিল্ড ট্রায়ালের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে, বহু আলোচনা পরেই গৃহীত হয়েছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল তৈরির প্রস্তাব। কয়েকবছর ধরে দু'চাকা এবং চার চাকা গাড়ির উপর পরীক্ষা করা হয়েছে। এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে মাইলেজ হ্রাস পাওয়া বা ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়া-কোনওটারই প্রমাণ মেলেনি এই পরীক্ষায়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইথানল মিশ্রিল পেট্রল বা ই-২০ নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। সি ভোটারের ওই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ই-২০ নিয়ে অসন্তুষ্ট খোদ এনডিএ ভোটাররা। ৫০ শতাংশেরও বেশি এনডিএ ভোটার এই জ্বালানি ব্যবহারই করতে চান না। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশের আশঙ্কা, ইথানল মিশ্রিল পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ির মাইলেজ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মাত্র ১৮.১ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁরা ই-২০ ব্যবহার করতে আগ্রহী। বাকি ২৯.৫ শতাংশ কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। এহেন পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
