সরকার প্রস্তাব দিলেও আলোচনায় অনীহা। উলটে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আজ রাতেই নতুন করে কোমর বেঁধে আন্দোলনে নামল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সন্ধে সাতটা নাগাদ লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডেলে জানান, ইন্ডিয়া জোটের সাংসদ ও নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তিস জানুয়ারি মার্গের গান্ধী স্মৃতিতে জমায়েত হচ্ছেন। রাহুলের কথায়, "আমরা সেইসব শিক্ষার্থীদের স্মরণ করব, যাদের হারিয়েছি। সেইসব ছেলে-মেয়েরা, যারা নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর নিজেদের জীবন শেষ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।" মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেসের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আজ রাতে নতুন করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে রাজধানীতে।
বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছিলেন, “আমাদের কোনও ইগো নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবন বা অফিসে আলোচনা হতে পারে। ককরোচদের সঙ্গে আমি এবং নাড্ডা বৈঠকে বসব। আলোচনার মাধ্যেমেই ধীরে ধীরে সমস্যা সমাধান হতে পারে।" এছাড়াও কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে লোকসভায় নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। যদিও রাহুল গান্ধী এখন বলছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তাফা না দিলে কোনও আলোচনাই হবে না।
এদিন এক্স হ্যান্ডেল রাহুল গান্ধী জানান, আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থীদের স্মরণ করার পাশাপাশি "আমরা আজ সেইসব আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছি, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অপরাধে যাদের উপর হামলা হয়েছে। ভারতের শিক্ষার্থীরা একা নয়। সমগ্র বিরোধী পক্ষ তাদের এবং তাদের দাবির পাশে দাঁড়াচ্ছে।" এদিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের গান্ধী স্মৃতি যাত্রা মাঝপথে আটকেছে পুলিশ।
এদিকে বিক্ষোকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মুরলি মনোহর জোশি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ শিক্ষার্থীদের দিনের পর দিন নয়াদিল্লির রাস্তায় জড়ো হতে দেখা বেদনাদায়ক। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা যথার্থ। ফলে সহানুভূতি এবং স্থায়ী সমাধানের ইচ্ছে নিয়ে বিষয়টির সুরাহা করা উচিত।" তিনি আরও লিখেছেন, "এটা দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, কম বয়সি মেয়েদের সঙ্গেও নৃশংস আচরণ করা হয়েছে।" অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, যে দেশে মহাত্মা গান্ধী অহিংস আন্দোলন করেছেন, "সেই দেশেই শিশুদের মারধর করা হচ্ছে। যেহেতু তাদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছে তারা। আমরা দেখছি যে কতটা অন্যায় ঘটছে। অথচ আমাদের দেশের গণতন্ত্র— যার জন্য গান্ধীজি আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, যার জন্য কত মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন— তার কী করুণ অবস্থা!"
