সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে খতম গ্যাংস্টার মুখতার আনসারি গ্যাংয়ের শার্প শুটার অনুজ কানাউজিয়া। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরপ্রদেশ এসটিএফের হিটলিস্টে ছিল এই আততায়ী। তাঁর মাথার দাম ছিল আড়াই লক্ষ টাকা। জামশেদপুরে অভিযানে অনুজের মৃত্যুকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে পুলিশ। এনকাউন্টারের পর তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জানা যাচ্ছে, প্রাক্তন বিধায়ক তথা গ্যাংস্টার মুখতার আনসারির মৃত্যুর পর ঝাড়খণ্ডে ঘাঁটি গেড়েছিল অনুজ। সেখান থেকেই নতুন গ্যাং তৈরি করে অপরাধ চালাত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার জামশেদপুরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। মধ্যরাতে তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অভিযুক্ত। দীর্ঘক্ষণ দুই পক্ষের গুলির লড়াইয়ের পর খতম হয় অনুজ। গত রবিবার এই আততায়ীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, অনুজের বুকে, কাঁধে, ও কনুইতে মোট ৬টি গুলি লেগেছে।
অনুজের মৃত্যুর পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দুটি তাজা বোমা, পিস্তল-সহ আরও একাধিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অনুজের গাড়ির চালক রাহুলকে। জানা যাচ্ছে, এই রাহুলের মাধ্যমেই নিজের গ্যাংয়ের লোকেদের বার্তা পাঠাত অনুজ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চারেক আগে ঝাড়খণ্ডে বাড়ি তৈরি করেছিল অনুজ। এখানে অজ্ঞাতপরিচয় লোকেদের আনাগোনা সর্বদা লেগে থাকত। অনেক রাত পর্যন্ত গানের আসর চলত বাড়ির ভিতর। ১৫ ফুটের উঁচু দেওয়াল বিশিষ্ট এই বাড়িতে ছিল অনুজের নিজস্ব অফিস। সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া ছিল গোটা চত্বর।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ রাজনীতির চির বিতর্কিত মুখ গ্যাংস্টার মুখতার আনসারি। উত্তরপ্রদেশের মউ সদর বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে গাজিপুরের বিধায়ক কৃষ্ণানন্দ রাই সহ ৭ জনকে খুনের অভিযোগ ওঠে মুখতারের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় মুখতারের। গত বছর জেলেই মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযোগ ওঠে, জেলে স্লো পয়জান করে খুন করা হয়েছে মুখতারকে। এবার পুলিশের অভিযানে খতম হল একদা গ্যাংস্টার মুখতারের শার্প শুটার।