shono
Advertisement
Kerala

পরিবর্তনের কেরলে ওয়াকফের পোর্টালে মুনামবাম গ্রাম! কং-মুসলিম লিগ সরকারের বিরুদ্ধে সরব চার্চ

চার্চের তোপ, 'মুখ্যমন্ত্রী আগে বলেছিলেন মুনামবামের জমি ওয়াকফের সম্পত্তি নয় এবং ক্ষমতায় এলে ১০ মিনিটের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। ধর্মের কারণে কি এখন ন্যায়বিচার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে?'
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:45 PM May 26, 2026Updated: 04:11 PM May 26, 2026

কেরলে ইউডিএফ সরকার ক্ষমতায় আসতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল মুনামবাম জমি বিতর্ক। কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগের জোট সরকারের উদ্যোগে ওয়াকফ বোর্ডের উমিদ পোর্টালে নথিভুক্ত হল জমিটি। যার অর্থ হল, এর্নাকুলামের মুনামবাম গ্রামের এই জমি এখন ওয়াকফের সম্পত্তি। এই ঘটনায় যারপরনাই অসন্তুষ্ট ক্যাথলিক চার্চ। কড়া সুরে চার্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ শুধু ওই গ্রামের ৬১০টি পরিবারের জন্য সমস্যার নয়, বরং কেরলের ধর্মনিরপেক্ষতার উপর বড়সড় হুমকি।

Advertisement

চার্চের মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে এই ঘটনার ব্যাপক বিরোধিতা করে জানানো হয়েছে, 'দেশের চরমপন্থীদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ওয়াকফ বোর্ডের এই ভূমিকা ইতিহাসে নথিভুক্ত থাকবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াকফ আইন সংশোধন করেছে, কিন্তু সেই আইন মুনামবামের বাসিন্দাদের কোনও সুরক্ষা দেয়নি। বরং সেই সংশোধনী বোর্ডকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।' কেরলের নয়া মুখ্যমন্ত্রী সতীশনকে নিশানায় নিয়ে চার্চের আরও তোপ, 'মুখ্যমন্ত্রী আগে বলেছিলেন মুনামবামের জমি ওয়াকফের সম্পত্তি নয় এবং ক্ষমতায় এলে ১০ মিনিটের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। ধর্মের কারণে কি এখন ন্যায়বিচার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে?'

কড়া সুরে চার্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ শুধু ওই গ্রামের ৬১০টি পরিবারের জন্য সমস্যার নয়, বরং কেরলের ধর্মনিরপেক্ষতার উপর বড়সড় হুমকি।

উল্লেখ্য, মুনামবামের এই জমিটি ১৯৫০ সালে জনৈক এক মুসলিম ব্যক্তি এক কলেজকে দান করেছিলেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জমিটি বহু মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়। সেই বিক্রির দলিলে জমিটিকে ওয়াকফের বলে দাবি করা হয়নি। ২০১৯ সালে কেরল ওয়াকফ বোর্ড (KWB) আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এর ফলে পূর্বের সমস্ত বিক্রয় বাতিল হয়ে যায়। এখানে বসবাসকারী ৬১০ বাসিন্দাদের উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মামলা হাই কোর্টে পৌঁছলে আদালত জানায়, ২০১৯ সালের ওয়াকফ ঘোষণাটি আইনত ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং এই জমিকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা বোর্ডটির ‘জমি দখলের কৌশল’ ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন হয় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত হাই কোর্টের নির্দেশ খারিজ করে।

নতুন করে জমিটি ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই মুখ খুলেছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ''আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্ষতিগ্রস্তদের কোনওভাবেই উচ্ছেদ করা হবে না। তারা তাদের জমি ফিরে পারে। শুধু তাই নয়, আইনি লড়াইয়ে নামারও আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস সরকার।" অন্যদিকে কেরলের ওয়াকফ বোর্ডের দাবি, তারা বেআইনি কোনও পদক্ষেপ করেননি। যা করা হয়েছে তা আইন মেনেই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement