shono
Advertisement
Naravane memoir

অবসরের পর ২০ বছর বই লেখা 'নিষিদ্ধ', নারাভানে বিতর্কের পর নির্দেশিকার পথে কেন্দ্র

প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের লেখা আত্মজীবনী ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি নিয়ে বিতর্কের জেরে এবার বড়সড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:37 PM Feb 14, 2026Updated: 04:37 PM Feb 14, 2026

প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের লেখা আত্মজীবনী ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি নিয়ে বিতর্কের জেরে এবার বড়সড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সূত্রের খবর, এবার শীর্ষ সেনা আধিকারিক এবং সরকারি আমলাদের অবসরের পর বই লেখার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার মোট ৩৭টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল মন্ত্রিসভায়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও নারাভানের বই নিয়ে উদ্ভূত বিতর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে মন্ত্রিসভায়। তাতেই এক মন্ত্রী প্রস্তাব দেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে যে সব আমলা বা সেনা আধিকারিকরা বসছেন, তাঁরা যেন অবসরের পরই সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গোপন কোনও তথ্য ফাঁস করতে না পারেন তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারপরই ওই ধরনের শীর্ষ আমলা ও পদাধিকারীদের অবসরের পর ২০ বছর পর্যন্ত বই লেখার উপর বা অন্য কোনও মাধ্যমে গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, খুব শীঘ্রই এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হতে পারে।

উল্লেখ্য, স্মৃতিকথায় গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ এবং অগ্নিপথ পরিকল্পনা-সহ ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের বিশদ বিবরণ রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট রাতে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখে সেই কথোপকথনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এই স্মৃতিকথায়। প্রাক্তন সেনাপ্রধান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে আগ্রাসন চালাচ্ছিল চিনের সেনা। কৈলাস রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতীয় পজিশন থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে চলে এসেছিল। নারাভানে লিখছেন, ‘সেসময় রাজনাথ সিং আমাকে বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন। এটা সেনার সিদ্ধান্ত। যা ঠিক মনে হয় তাই করুন। আমার হাতে একটা গরম আলু তুলে দেওয়া হয়েছিল।’ বস্তুত নারাভানে ইঙ্গিত করেছেন, তাঁকে কঠিন দোটানায় ফেলে দিয়েছিল সরকার। প্রশাসনিক স্তরে যে সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে নেওয়া উচিত ছিল, সেটাই সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় সেনাপ্রধানের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আসলে প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের আত্মজীবনী নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক মোদি সরকারকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, জেনারেল নারাভানের ওই বইটিতে এমন আরও অধ্যায় আছে যা কিনা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। সেকারণেই বইটি প্রকাশ করতে দিচ্ছে না প্রতিরক্ষামন্ত্রক। কেন এতদিন ধরে বইটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না? কেনই বা সংসদে ওই বইয়ের উদ্ধৃতি পড়ার সুযোগ দেওয়া হল না? এই প্রশ্নগুলি রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলছে সরকারকে। মজার কথা হল, যতদিন ধরে নারাভানের ওই স্মৃতিকথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে আটকে সেই সময় একই ধরনের ৩৫টি বই প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আটকে শুধু ওই আত্মজীবনীটিই। ভবিষ্যতে যেন এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement