আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলিরেখা ঢাকছেন? চোখের কোণে বয়সের ছাপ পড়লে আমরা উদ্বেগে ভুগি বইকি! দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিমে তার শুশ্রূষাও চলে। কিন্তু চুলের আড়ালে ঢেকে থাকা স্ক্যাল্পের খবর আমরা ক’জন রাখি? শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের চেয়ে মাথার তালু বুড়িয়ে যায় প্রায় বারো গুণ দ্রুত গতিতে। আমরা যখন সচেতন হই, ততক্ষণে চুলের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে যায়। কী দেখে বুঝবেন আপনার স্ক্যাল্প বার্ধক্যের কবলে? বিশেষজ্ঞরা মূলত পাঁচটি লক্ষণের কথা বলছেন।
ফাইল ছবি
প্রথমত, হঠাৎ স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যাওয়া। এক সময় হয়তো তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে নাজেহাল হতেন। কিন্তু ৩০-৩৫ বছর বয়সের পর যদি দেখেন মাথার ত্বক অদ্ভুত ভাবে খসখসে হয়ে গিয়েছে, তবে বুঝবেন বিপদ আসন্ন। হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে সেবাম বা প্রাকৃতিক তেলের জোগান কমে গেলেই এমনটা হয়।
দ্বিতীয় লক্ষণ হল চুলের ঘনত্ব কমে আসা বা ‘হেয়ার থিনিং’। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন ও ইলাস্টিন কমতে থাকে। ফলে চুলের ফলিকল সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফলিকল মিনিয়াচারাইজেশন’। মহিলাদের ক্ষেত্রে এর ফলে সিঁথি চওড়া হতে শুরু করে।
তৃতীয়ত, চুলের টেক্সচার বা বুনন বদলে যাওয়া। রক্ত সঞ্চালন কমলে চুলে পুষ্টি পৌঁছায় না। ফলে শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহারের পরেও চুল প্রাণহীন ও রুক্ষ দেখায়।
ফাইল ছবি
চতুর্থত, মাথার তালুতে অকারণ চুলকানি বা প্রদাহ। আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে স্ক্যাল্প সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
পঞ্চমত, অসময়ে চুল সাদা হয়ে যাওয়া। মেলানিন উৎপাদনের হার কমলে অকালপক্কতা দেখা দেয়, যা বার্ধক্যের অমোঘ ইঙ্গিত।
দূষণ, মানসিক চাপ আর রাসায়নিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে। তাই অকালে সৌন্দর্য হারাতে না চাইলে ত্বকের মতোই স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়া জরুরি। নিয়মিত ম্যাসাজ আর সঠিক পুষ্টিই পারে এই অকাল বার্ধক্য রুখে দিতে।
