নিটের প্রশ্নফাঁস কীভাবে? পরীক্ষা বাতিলের পরই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁসের তদন্তে নেমে রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ ১৫ জনকে আটক করেছে। শুধু তা-ই নয়, এই দুর্নীতির শিকড়ের খোঁজে সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
সূত্রের খবর, নিটের পুরো প্রশ্নফাঁসের চক্রটা অতি সন্তর্পণে সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। অত্যন্ত সংগঠিত ভাবে একটি চক্র কাজ করেছে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসে। ইতিমধ্যেই জয়পুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মণীশ নামে এক ব্যক্তিকে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তিনি এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ‘মূলচক্রী’। শুধু রাজস্থান নয়, এই প্রশ্নফাঁসের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে রাজস্থান, হরিয়ানা, কেরল, জম্মু-কাশ্মীর, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে এই চক্র কাজ করে। সেখান থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের একটি কপি পাঠানো হয় হরিয়ানায়। সেখান থেকেই আলাদা আলাদা প্রশ্নের সেট তৈরি করে ছড়ানো হয়েছে বলে খবর।
ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা প্রাইভেট মাফিয়া বলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটিতে শ'চারেক সদস্য রয়েছেন। প্রত্যেকেই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি তদন্তকারীদের। ওই গ্রুপের অ্যাডমিনও নাকি স্বীকার করেছেন ওই গ্রুপে নিটের প্রশ্ন চালাচালি হত। যদিও এখন পুরোটাই তদন্ত সাপেক্ষ।
এদিকে এই পরীক্ষা বাতিল নিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলছেন, "২২ লক্ষ পড়ুয়ার কঠোর পরিশ্রম ভেঙেচুরে দিল বিজেপি সরকার। বহু পড়ুয়ার বাবা হয়তো ঋণ নিয়েছিলেন। বহু মা হয়তো নিজেদের গয়না বেঁচে দিয়েছিলেন। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া রাত জেগে পড়াশোনা করছেন। বদলে তাঁরা কী পেলেন তাঁরা? প্রশ্নফাঁস, সংগঠিত দুর্নীতি। যদি কারও ভাগ্য পরিশ্রমের বদলে টাকা দিয়ে নির্ধারিত হয়, তাহলে সেটা শুধু ব্যর্থতা নয়, যুব সমাজের সঙ্গে সংগঠতিত অপরাধ।" একা রাহুল নন, মহুয়া মৈত্র থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের বহু নেতাই প্রশ্নফাঁসের কাণ্ডে সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
