বিধানসভায় ভরাডুবি হয়েছে। শুধু ক্ষমতা যাওয়াই নয়, তামিলনাড়ু বিধানসভায় আসনসংখ্যার নিরিখেও বেশ চাপে ডিএমকে। খোদ এমকে স্ট্যালিন ভোটে হেরেছেন। কিন্তু তাতেও নিজের পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসছেন না তাঁর পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন (Udhayanidhi Stalin)। তাঁর সাফ কথা, সনাতন ধর্মের সমুলে বিলোপ করতেই হবে। উদয়নিধির সাফ কথা, যে ধর্মে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে, সেই ধর্মের প্রয়োজন নেই।
এবার বিধানসভায় এম কে স্ট্যালিন জিততে পারেননি। তাই উদয়নিধিকেই বিরোধী দলনেতা করেছে ডিএমকে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে বিধানসভায় প্রথম ভাষণেই ফের সনাতন ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উদয়নিধি। বিতর্কটা ছিল বন্দেমাতরম নিয়ে। আসলে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের পর বন্দেমাতরম গাওয়া হয়। তিন নম্বরে গাওয়া হয় তামিলনাড়ুর রাজ্য সঙ্গীত। সেটাতেই আপত্তি উদয়নিধির। তাঁর বক্তব্য, বন্দেমাতরমের মতো 'সনাতনী' গানের জন্য তামিল অস্মিতাকে বিসর্জন দেওয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, "সনাতন ধর্ম মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে। এই ধর্ম অবশ্যই বিলুপ্ত করা উচিত।"
উদয়নিধির ওই মন্তব্যে স্বভাবতই ফুঁসে উঠেছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপির তামিলনাড়ুর অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে বলা হয়েছে, "আমরা স্ট্যালিনের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি।" তাঁদের প্রশ্ন, "সনাতন ধর্মের উৎখাতই যদি স্ট্যালিনের আদর্শ হয়, তাহলে সেটা নির্বাচনী ইস্তেহারে লেখা হল না কেন?
অবশ্য এই প্রথম নয়, উদয়নিধি আগেও সনাতন ধর্মের বিরোধিতা করেছেন। এবং তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উদয়নিধি স্ট্যালিন বলেছিলেন, “আমাদের প্রথম কাজ বিরোধিতা নয়, সনাতন ধর্মের আদর্শকে মুছে ফেলা। সনাতন প্রথা সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের বিরোধী।” তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “করোনা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গির বিরোধিতা নয়, তাদের নিশ্চিহ্ন করা দরকার, তেমনই সনাতন আদর্শকেও মুছে ফেলা দরকার।” উদয়নিধির এই বক্তব্য নিয়েই তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। হিন্দুত্ববাদীদের বক্তব্য, পেরিয়ারের রাজনীতির সুরেই কথা বলে সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন উদয়নিধি।
