বেলডাঙার ঘটনায় (Beldanga Unrest) তদন্ত করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। রাজ্যের দাবি মোতাবেক এই সংক্রান্ত মামলায় কোনও স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। মামলা ফেরত পাঠানো হল কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta HC)। তদন্ত চলাকালীন ইউএপিএ প্রয়োগের প্রাথমিক ভিত্তি আছে কি না তা জানিয়ে সিল করা খামে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট জমা দিতে হবে এনআইএকে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই রিপোর্ট স্বাধীনভাবে বিবেচনা করবে এবং রাজ্য সরকারের আবেদন শুনবে বলেও এদিন নির্দেশে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক সংখ্যালঘু যুবকের মৃত্যুতে ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Unrest)। উত্তেজিত জনতা পথ ও ট্রেন অবরোধ শুরু করে। ভাঙচুরও চলে। ১৭ তারিখও একইভাবে উত্তপ্ত হয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর থেকে সাংবাদিকদের মারধর, দিনভর উত্তপ্ত ছিল এই এলাকা। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। ঘটনার পরেই সোশাল মিডিয়া ও CCTV ফুটেজের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ঘটনার পরেই এনআইএ তদন্ত চেয়ে মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। এনআইএ তদন্তের নির্দেশে স্থগিতাদেশের আবেদন জানানো হয়। সেই মতো আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের আবেদনের শুনানি হয়। মামলার দীর্ঘ শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ঘটনায় এনআইএ তদন্তভার দেওয়া হয়েছে প্রায় একমাস আগে। এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। তবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা উচিত কি না, সে বিষয়ে কোনও মতামত জানায়নি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। তবে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট এনআইএকে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ আদালতের।
