উপায়হীন পরিস্থিতিতে পরিবার-সহ আত্মহত্যা করতে চলেছেন, এর জন্য কেউ দায়ী নয়। এমন ভিডিওবার্তা দিয়ে আত্মঘাতী হলেন উত্তরপ্রদেশের মথুরার বাসিন্দা এক ব্যক্তি। বাড়ি থেকে ওই যুবকের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের নিথর দেহ। পাঁচ জনের দেহ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, আর্থিক কারণে 'গণ-আত্মহত্যা'র পথ বেছে নেয় পরিবারটি।
মথুরার গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৫ বছরের মণীশ কুমার, ৩২ বছরের সীমা, তিন সন্তান---আট বছরের হানি, পাঁচ বছরের প্রীয়ানশি এবং তিন বছরের প্রতীকের দেহ। ঘরের ভিতর থেকে দুধের গ্লাস উদ্ধার হওয়ায় শুরুতে পুলিশ মনে করেছিল, দুধে বিষ মিশিয়ে খেয়ে আত্মহত্যা করেছে পরিবারটি। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, মণীশের মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, স্ত্রী সীমার মৃত্যুর হয়েছে গলায় ফাঁস দেওয়ার কারণে, তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে। পুলিশ মনে করছে, তিন সন্তানকে হত্যার পরে আত্মহত্যা করে দম্পতী।
সকাল থেকে মণীশ-সীমার বাড়িতে বাচ্চাদের শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পরে মণীশের ভাইয়ের উপস্থিতিতে বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পরিবারের পাঁচ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ভিডিওবার্তায় গণ-আত্মহত্যার কথা বলেন মণীশ। তিনি বলেন, "আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। কাউকে যেন সন্দেহ না করে পুলিশ। আমি খুব হতাশার মধ্যে রয়েছি, উপায়হীন, অনুরোধ করছি, (আমাদের মৃত্যুর জন্য) কাউকে যেন কষ্ট না দেওয়া হয়।" আর জানান, সম্প্রতি ১২ লক্ষ টাকায় একটি জমি বিক্রি করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ওই ক্রেতাকেও যেন বিরক্ত না করা হয়. ভিডিওতে সে কথাও বলেন মণীশ।
বাড়ির দেওয়ালেও সুইসাইড নোট লেখা ছিল। সেখানে লেখা হয়েছে, "আমি মণীশ ও সীমা, নিজেদের ইচ্ছায় আত্মহত্যা করছি।" সব মিলিয়ে পুলিশের ধারণা আর্থিক কারণেই সন্তানদের খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন দম্পতি।
