আত্মপ্রচারের চরম নিদর্শন গেরুয়া শাসিত ত্রিপুরায়। পড়ুয়াদের জন্য প্রশ্ন বিচিত্রা প্রকাশ করে তাতে নিজের ছবি ছাপলেন বিজেপির মন্ত্রী কিশোর বর্মন। আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে মন্ত্রীর এহেন প্রচারে বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। কারণ, ওই বইয়ের প্রচ্ছদে তিনি নিজের ছবি দিয়েছেন। যেন তিনিই বইটির লেখক বা সম্পাদক।
ত্রিপুরার পঞ্চায়েত, উচ্চ শিক্ষা এবং সাধারণ প্রশাসন (রাজনৈতিক) দপ্তরের মন্ত্রী কিশোর বর্মন। ২০২৫-’২৬ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য প্রশ্ন বিচিত্রা বা কোশ্চেন ব্যাঙ্ক প্রকাশ করেছেন তিনি। নলচর বিধানসভা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে বইয়ের প্রচ্ছদে। আর সেখানেই জ্বলজ্বল করছে বিধায়ক তথা মন্ত্রীর ছবি। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে।
কিশোর বর্মনের দাবি, বিধায়ক বা মন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই তিনি নিজ উদ্যোগে এই কর্মসূচি নিয়ে থাকেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি না জেনে অনেকে সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে।
যদিও কোনও লজ্জা প্রকাশ না করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন মন্ত্রী। যেখানে নিজেই স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন স্কুলের প্রশ্নপত্র জেরক্স করে ওই বইতে সন্নিহিত করা হয়েছে। এবং প্রতি বছরই নিজের কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের জন্য তিনি এই প্রশ্ন বিচিত্রার ব্যবস্থা করে থাকেন। সিবিএসই বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেন। অন্য বছর জ্যামিতি বক্স, ক্যালকুলেটর দেওয়া হলেও এ বছর কোশ্চেন ব্যাঙ্ক জেরক্স করে তার উপর ‘কভার’ লাগিয়ে বিজেপি কার্যকর্তারা বিতরণ করেছেন।
কিশোর বর্মনের দাবি, বিধায়ক বা মন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই তিনি নিজ উদ্যোগে এই কর্মসূচি নিয়ে থাকেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি না জেনে অনেকে সোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাঁর মধ্যে বিরোধী সিপিএমের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ সিপিএমের মন্ত্রী-বিধায়করা কখনও নেননি বলেও তিনি দাবি করেন। বিজেপির আরও অনেক বিধায়ক-মন্ত্রী এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও কিশোর বর্মন জানান। এ বিষয়ে বিরোধীরা যে আত্মপ্রচার তথা অনৈকতার অভিযোগ এনেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে যান মন্ত্রী।
