আধ্যাত্মিক আবহে নতুন সমীকরণ। রাজনীতির ময়দানে তারুণ্যের জয়গান গাইলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার বৃন্দাবনের অক্ষয় পাত্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বিজেপির নবনির্বাচিত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। যোগীর মতে, নীতীন নবীন ‘তারুণ্যের প্রাণশক্তি’ এবং গতিশীলতার মূর্ত প্রতীক। এদিন নবীনকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানটি শোনেন যোগী। পাশাপাশি নবনির্বাচিত সভাপতিকে উত্তরপ্রদেশের পুণ্যভূমিতে সংবর্ধনাও জানানো হয়।
'রাধে-রাধে' এবং 'হর হর মহাদেব' ধ্বনিতে এদিন মুখরিত ছিল ব্রজভূমি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নীতীন নবীন বিহার বিধানসভার পাঁচ বারের সদস্য। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় দল তাঁর কাঁধে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে প্রথম আশীর্বাদ নিতে আসাকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন যোগী।
বৃন্দাবনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এই মাটি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মস্থান। মোদীজির অনুপ্রেরণায় ব্রজভূমি আজ উন্নয়নের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে। যোগীর দাবি, উত্তরপ্রদেশ আর ‘বিমারু’ রাজ্য নয়। গত পাঁচ বছরে রাজ্যটি রাজস্ব উদ্বৃত্তে পরিণত হয়েছে। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের দৌলতে পরিকাঠামো উন্নয়নের গতি বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা কঠোর হওয়ায় সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত বোধ করছেন। সরকারি প্রকল্পের সুফল এখন জাতপাত নির্বিশেষে গরিব, মহিলা এবং কৃষকদের কাছে পৌঁছচ্ছে।
এদিনের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, উত্তরপ্রদেশের যুবসমাজের এখন আর কোনও ভয় নেই। অতীতে রাজ্যটি যে বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত ছিল তা থেকে মুক্তি মিলেছে। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী, দুষ্যন্ত গৌতম, সন্দীপ সিংহ-সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব। উত্তরপ্রদেশের এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে কর্মীদের পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সভাপতির উপস্থিতিতে যোগীর এই বার্তা সংগঠনের অন্দরে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে।
