ভারতবাসীর কাছে সাধারণতন্ত্র দিবস শুধু সংবিধান প্রণয়নের জয়গাথা উদযাপনেরই দিন নয়। বিশ্বের দরবারে দেশের প্রতিটি খুঁটিনাটি তুলে ধরারও এক উদযাপন বটে। প্রতিবছর দিল্লির রাজপথে এই দিনে দর্শক হিসেবে হাজির থাকতে দেখা যায় বিদেশি অতিথিদের। সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তাঁরা আসেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হল না। সোমবার, ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশে 'দেশি গার্ল' রূপে নজর কাড়লেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন।
কর্তব্য পথে সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন। ছবি: এএনআই
পরনে তাঁর সোনালি-মেরুন জমকালো কিংখাব, যা মোদির কেন্দ্র বারাণসীর বিশেষ বস্ত্র বেনারসি সিল্ক দিয়ে তৈরি। সঙ্গে মানানসই সাদা স্লিম ফিট ট্রাউজার্স। যে পোশাকে উঠে এসেছে দেশীয় ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সঠিক মেলবন্ধন। সোমবার কর্তব্য পথে 'আত্মনির্ভর ভারতে'র তৈরি অস্ত্রের ঝনঝনানির বাইরে আপাতত উরসুলার এই পোশাক নিয়ে বেশ চর্চা চলছে।
উরসুলার পরনে বেনারসি ব্রোকেডের গলাবন্ধ পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাদা ট্রাউজার্স। ছবি: পিটিআই
২৬ জানুয়ারি উপলক্ষে ভারতের অতিথি হয়ে আসা জার্মানির উরসুলা ভন ডের লিয়েনের এই বিশেষ পোশাকটি তৈরি করেছেন ভারতীয় ডিজাইনার রাজেশপ্রতাপ সিং। বেনারসি সিল্কের উপর সোনালি ও রুপোলি সুতো-জরি দিয়ে ব্রোকেডের ঠাসা কাজ, তাতে ফুলের নকশা। এহেন ব্রোকেডের তৈরি গলাবন্ধ ডিজাইনের কিংখাব, যা সাধারণত রাজারাজড়াদের পরিচিত পোশাক ছিল, সেটাই দেখা গেল ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের পরনে। ফুলহাতা, গলাবন্ধ পোশাকটি হাঁটুর নিচে এসে দু'ভাগে ভাগ হয়ে V-এর মতো আকার নিয়েছে। মেরুন-সোনালির কিংখাবটিতে বিদেশিনী উরসুলাকে ভারতীয় নারী বলেই মনে হচ্ছিল। সেইসঙ্গে ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে নমস্কার বিনিময় তাঁকে আরও আপনজন করে তুলেছিল।
২৬ জানুয়ারি উপলক্ষে ভারতের অতিথি হয়ে আসা জার্মানির উরসুলা ভন ডের লিয়েনের এই বিশেষ পোশাকটি তৈরি করেছেন ভারতীয় ডিজাইনার রাজেশপ্রতাপ সিং। বেনারসি সিল্কের উপর সোনালি ও রুপোলি সুতো-জরি দিয়ে ব্রোকেডের ঠাসা কাজ, তাতে ফুলের নকশা। ফুলহাতা, গলাবন্ধ পোশাকটি হাঁটুর নিচে এসে দু'ভাগে ভাগ হয়ে V-এর মতো আকার নিয়েছে।
ভারতীয় রীতি মেনে নমস্কার করলেন উরসুলা। ছবি: এএনআই
বেনারসি ভারতের বহু জনপ্রিয় ও প্রাচীন বস্ত্র। মুঘল আমল থেকে এর প্রচলন। সেসময়কার রাজা-বাদশারা নিজেদের জাঁকজমক দেখাতে বেনারসির তৈরি জামাকাপড় ব্যবহার করতেন বেশি। সঙ্গে মানানসই অলংকার। ধীরে ধীরে বেনারসির নানা ধরন তৈরি হতে থাকে বারাণসীর বস্ত্রশিল্পীদের হাত ধরে। এই মুহূর্তে ভারতীয় বিয়েতেই বেনারসির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বেনারসি শাড়ি ছাড়া বিয়ের আসরে বসেন না সিংহভাগ নারী। তবে বেনারসি কাজের ব্রোকেড ডিজাইন এসেছে অনেকটা পরে। তারও জনপ্রিয়তা ঢের। আর দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যের নবীন রূপের পোশাকেই ভারতীয় হয়ে উঠলেন জার্মানির উরসুলা ভন ডের লিয়েন।
