নয়ডায় গাড়ি-সহ গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার। মঙ্গলবার ওই ঘটনায় এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এদিকে চোখের সামনে ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাবা রাজকুমার মেহতা। দুর্ঘটনার পরেই রাজকুমারকে ফোন করেন ছেলে যুবরাজ। তিনি জানান, জল ভরা একটি বিরাট গর্তে পড়ে গিয়েছেন। গাড়ির উপর কোনওমতে ভেসে আছেন। এর পরেই বলেন, "বাবা আমি মরতে চাই না।" দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েও অবশ্য বাঁচানো যায়নি তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে। বাবার চোখের সমানে সলিল সমাধি হয় ছেলের।
শুক্রবার রাতে যুবরাজের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনায় গাফিলতি ছিল বলেই দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ইতিমধ্যে নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকেশকে বহিষ্কার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি একটি সিট গঠন করে পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে রাজকুমার মেহতা তাঁর অসহায়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘‘আমার জীবনে এই প্রথম এত অসহায় লাগছে। চোখের সামনে ছেলেকে মরতে দেখলাম। ওকে বাঁচাতে পারলাম না। বার বার কানে ভাসছে, বাবা আমি মরতে চাই না।’’ পাশাপাশি ছেলের মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের শাস্তি দিতে যত দূর যেতে হয় যাবেন, জানিয়ে দিলেন রাজকুমার। তিনি বলন, ‘‘ন্যায়বিচারের জন্য যত দূর যেতে হয় যাব। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের সকলকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’’
শুক্রবার রাতে যুবরাজের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে মঙ্গলবার নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর ঘটনায় অভয় কুমার নামের এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উইশটাউন প্ল্যানার্স প্রাইভেট লিমিডেটের অন্যতম মালিক। এই সংস্থার কাজের জন্যই গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সংস্থার আরেক অংশিদার মণীশ কুমারের সন্ধান করছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, একটি শপিং মল নির্মাণের জন্য ২০২১ সালে ওই অভিশপ্ত গর্তটি খোঁড়া হয়। তার পর থেকে ওই ভাবেই পড়েছিল গর্তটি। বিগত বছরগুলিতে সেখানে বৃষ্টির জল জমে। তাতে পড়েই মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের যুবরাজ মেহতার।
