shono
Advertisement

বিলুপ্তির পথে সলমনের ‘শিকার’ কৃষ্ণসার হরিণ

মন খারাপ বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষদের। The post বিলুপ্তির পথে সলমনের ‘শিকার’ কৃষ্ণসার হরিণ appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 04:35 PM Dec 04, 2018Updated: 04:35 PM Dec 04, 2018

নন্দিতা রায়, যোধপুর: ভোট আসে, ভোট যায়, ‘মৃগতৃষ্ণা’ নিয়ে চেয়ে থাকে কাঁকনি।

Advertisement

যোধপুর শহর থেকে বেরিয়ে ৬২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সোজা কুড়ি কিলোমিটার পথ পার হলেই কাঁকনি গ্রাম। গ্রামে ঢোকার মুখেই দেখা হল ঘসিটারাম বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে। কালো হরিণ দেখতে পাওয়া যাবে? ছুঁড়লাম প্রশ্নটা। একটু হেসে জবাব দিলেন পঁয়ষট্টির প্রৌঢ়, “আপনারা শহর থেকে তো সেটা দেখতেই আসেন। আর সলমন খানের কথা শুনতে। আমাদের কথা আর জানতে চান না।”

কাঁকনি গ্রাম-কৃষ্ণসার হরিণ-সলমন খান। এই তিন শব্দ শোনার পর বলিউডপ্রেমীদের বুঝতে বাকি থাকে না কেন বিখ্যাত রাজস্থানের এই অজ গাঁ। ২০ বছর আগে এই গ্রামেই ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেন ‘দাবাং’ সলমন খান। যার জেরে দীর্ঘ মামলা মোকদ্দমায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। একাধিকবার হাজতবাসও করতে হয়েছে বলিউডের সুপারস্টারকে। শুধু সল্লু মিঞা কেন, সুপারহিট সেই ছবির অন্য অভিনেতা সইফ আলি খান, সোনালি বেন্দ্রে, নীলমদেরও প্রায়ই যোধপুর আদালতে কড়া সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকার নিজের চোখে না দেখলেও ঘটনা গড়গড় বলে গেলেন ঘসিটারাম। সলমনের সঙ্গে যে আরও নায়ক-নায়িকারা ছিলেন, তখন তাঁদের সবাইকে না চিনলেও এখন সবাইকে চেনেন। খোঁজ রাখেন হত্যা মামলার গতিবিধির উপরও। এ বছর এপ্রিলে সলমনকে পাঁচ বছরের জেলের সাজা শোনানো হয় এবং তিনি উচ্চতর আদালতে আবেদন করেছেন, সে কথাও জানেন ঘসিটারাম।

[‘জিজু’ নিকের পকেট থেকে কত কোটি খসালেন শ্যালিকা পরিণীতি?]

ভগবান বিষ্ণুর উপাসক, গুরু জম্বেশ্বরের ভাবধারায় চলা বিষ্ণোইদের কাছে প্রকৃতি ও পশুপাখি রক্ষা করা ভগবানের পুজো করার সমান। প্রাণী হত্যা এবং গাছ কাটা তাদের কাছে পাপ বলেই গণ্য হয়। তাই সলমনের মতো তারকার বিরুদ্ধে যেতেও তাঁরা পিছপা হননি বলে জানালের হরিণ শিকার মামলার অন্যতম সাক্ষী সেবারাম বিষ্ণোই। গ্রামের মাঠে ঘাটে, খেতে সর্বত্র বহু কৃষ্ণসার হরিণের দেখা মিলত এখানে। মানুষ ও হরিণ এখানে পাশাপাশি চলে। পানীয় জলের সমস্যার জন্য কালো হরিণের সংখ্যা আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে। সেবারাম বললেন, “সলমনের ঘটনা চেপে দেওয়ার জন্য নানা দিক থেকে প্রচুর চাপ এসেছিল। কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। কিন্তু এখন লড়াই করতে গিয়ে কোমর ভেঙে যাচ্ছে। যে হরিণ বাঁচানোর জন্য আমরা নিজেদের প্রাণ পর্যন্ত বাজি রেখেছি এখন সেই শিকার বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনের ঔদাসীন্যে পানীয় জলের সমস্যা তীব্র হয়েছে। আর হ্যান্ড পাম্প থেকে যে জল ওঠে তাতে এতটাই ক্ষার থাকে যে গরু ও অন্য পশুর অসময়ে মৃত্যু হচ্ছে। সলমন মামলার সময় অনেক লোক এখানে আসে।”

[নৌসেনা দিবসে ‘ইন্ডিয়ান নেভি’ সম্পর্কে এই ১০টি তথ্য জানলে আপনার গর্ব হবে]

কালো হরিণদের বিশেষ স্বভাব তারা পরিস্থিতি বদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বদলে নিতে পারে। তাই গ্রামবাসীদের সঙ্গে তাদের থাকতে সমস্যা হয় না। কিন্তু জল না পেলে বাঁচবে কী করে? ক’দিন পরেই ভোট। ভোটের জন্য প্রচারও চলছে জোরকদমে। কিন্তু জলের সমস্যা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না বলে অভিযোগ ঘসিটারামের। জানালেন, “লুনি বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যে কাঁকনি-সহ আশপাশের গ্রামেও কালো হরিণের দেখা মেলে। কিন্তু এখানে লুনি ও জোজরি নদীতে জল কম। সঙ্গে দূষণ ও অবৈধ খননের জন্য কৃষ্ণসার এবার বিলুপ্ত হওয়ার পথে।”

The post বিলুপ্তির পথে সলমনের ‘শিকার’ কৃষ্ণসার হরিণ appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement