জঙ্গলঘেরা সড়কপথে মুখোমুখি বাঘ! কমবেশি ৫০ ফুট দূরত্বে। শরীর জুড়ে ঠান্ডা রক্তস্রোত বয়ে যাওয়ার পর হাতে তালি দিয়ে সাইকেল ফেলে ছুটে গ্রামে ফেরেন বৃদ্ধ। পরে তাঁর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুরুলিয়ার কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের মানবাজার ২ বনাঞ্চলের জামতোড়িয়া বিটের গোলাপাড়া গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ ও বনদপ্তর। ততক্ষণে ভিড় জমান গ্রামবাসীরাও। তল্লাশি চালানো হয় জঙ্গলেও। তবে রুখামাটি, কাঁকর, পাথর থাকায় সেরকম কোনও পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি বলে বনদপ্তরের দাবি। ফলে আগন্তুক ওই বন্যপ্রাণের পরিচয় জানতে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো বলেন, ‘‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আমিও মানবাজার ২ রেঞ্জে এসেছি। সেরকম কিছু পাওয়া যায়নি। নজরদারি চলছে। ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।’’ তিনি এলাকার মানুষের কাছে আবেদন রেখেছেন, যাতে অকারণে কেউ আতঙ্কিত না হন। পাশাপশি যদি সেরকম কিছু খবর থাকে তাহলে বনদপ্তরকে জানাতে অনুরোধ রাখেন তিনি। বনদপ্তর ওই বৃদ্ধকে নেকড়ে, হায়না, লেপার্ড, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি দেখালে তিনি বাঘ বলেই জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে সাইকেলে ধানের বস্তা নিয়ে গোলাপাড়া গ্রাম হয়ে সগেডি গ্রামের বছর ৬৫-র বদনচন্দ্র মাণ্ডি বুড়িবাঁধ যাচ্ছিলেন।
ঘটনাস্থলে বনদপ্তরের কর্মীরা। নিজস্ব চিত্র
বদনবাবুর দাবি, ‘‘আমি জঙ্গল ঘেরা উঁচু রাস্তায় সাইকেল থেকে নেমে একটু দাঁড়িয়েছিলাম। ওই সময় প্রায় ৫০ ফুট দূরে দেখি রাস্তার পাশে গলায় লম্বা কেশর যুক্ত ওই বাঘটি দাঁড়িয়ে আছে। আমি দুবার হাততালি দিতেই সে জঙ্গলের দিকে ঢুকে যায়। এরপর ভয়ে আমি ছুটে গ্রামে এসে লোকজনকে জানাই।’’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলাপাড়া জঙ্গলটি দক্ষিণ বাঁকুড়ার বারো মাইলের সঙ্গে যুক্ত আছে। গ্রামবাসীদের অনুমান, ওই বন্যপ্রাণটি বাঁকুড়ার দিক থেকে এসে সেদিকেই চলে যেতে পারে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে রয়্যাল বেঙ্গল জিনাত ও তার পুরুষ সঙ্গী কিলা জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় আসে। ওই দুই বাঘ-বাঘিনি বান্দোয়ান ছাড়াও মানবাজার ২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। তবে দক্ষিণ বাঁকুড়ার সীমানায় অবস্থিত বুড়িবাঁধ অঞ্চলে অতীতে বাঘের আনাগোনার খবর নেই। তবে ২০২৫ সালে একবার জঙ্গলে লেপার্ড দেখার দাবি করেছিলেন এক মহিলা। যদিও ওই ঘটনাতেও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পায়নি বনদপ্তর।
