এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নয় আনন্দপুরে মোমো কারখানার আগুন। রাত তিনটের সময় বিধ্বংসী এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যা খবর, এখনও পর্যন্ত কারখানার বিভিন্ন অংশে ধিক ধিক করে আগুন জ্বলছে। ধোঁয়ার গ্রাসে গোটা এলাকা। ফলে কারখানার ভিতরে ঢুকতে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে দমকল আধিকারিকদের। এদিকে ভয়াবহ আগুনে এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খোঁজ নেই আরও ছয়জনের। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই স্বজনহারাদের ভিড় বাড়ছে ঘটনাস্থলে। হাহাকার সর্বত্র। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কীভাবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড তা সরজমিনে খতিয়ে দেখেন। কথা বলেন দমকল আধিকারিকদের সঙ্গেও। পাশাপাশি উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেন অরূপ বিশ্বাস।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, ''আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে ভিতরে ধোঁয়া থাকায় দমকল আধিকারিকদের ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে।'' তবে এখনও পর্যন্ত কীভাবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি ফরেনসিকও গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বেশ কয়েক ঘণ্টা কেটে গিয়েছে এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শ্রমিকের খোঁজ নেই। মন্ত্রী বলেন, ''ধোঁয়া থাকায় ভিতরে ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানো গেলে বোঝা যাবে।''
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের নাজিরাবাদ রোডে অবস্থিত মোমো তৈরির ওই কারখানাটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোররাতে এই আগুন লাগে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে একটি ডেকোরেটার্সের গোডাউনে আগুন লাগে। সেখান থেকেই ওই কারখানায় আগুন ছড়ায়। রীতিমতো স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় দমকল এবং পুলিশে। এক এক করে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়ঙ্কর আকার নেয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
নাজিরাবাদের কারখানায় বিধ্বংসী আগুন।
এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কারখানায় আমার জামাই রাতের ডিউটি করতেন। রাত তিনটের সময় ফোনে বাঁচানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। আর তা শুনেই ছুটে এসেছিলাম। কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি। এমনকী দমকল কিছু জানাতে পারেনি। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে উদ্বেগ।
