নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সংসদে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবি জানিয়ে প্রস্তাব জমা দিল ইন্ডিয়া জোট। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে অন্তত ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর জোগাড় হয়েছে। এর মধ্যে লোকসভায় ১৩০ জন এবং রাজ্যসভায় ৬৩ জন সাংসদ রয়েছেন।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাতদুষ্ট-বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদে জমা দেওয়া নোটিসে তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ', 'নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি' ও এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতার দাবি, লোকসভা ও রাজ্যসভা-দুই কক্ষেই সাংসদদের মধ্যে মুখ্য কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় প্রস্তাবে দ্রুত স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের কোনও বিচারপতিকে অপসারণের যে প্রক্রিয়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয় না। তবে এর আগে যেহেতু কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এধরনের উদ্যোগ সই সংগ্রহ পর্যন্ত গড়ায়নি, তাই অত্যন্ত সাবধানে, আইনি দিক খতিয়ে দেখেই পা ফেলছে তৃণমূল।
নিয়ম অনুযায়ী, ওই প্রস্তাব সংসদের দুই কক্ষেই জমা দিয়েছে বিরোধীরা। এরপর স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রস্তাব গৃহীত হলে ৩ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটি ছাড়পত্র দিলে সেটি সংসদে পেশ করা হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিতর্কের পর সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট (Gyanesh Kumar Impeachment) প্রক্রিয়া দীর্ঘ। এবং তাতে বহু সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। যে সংখ্যাটা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হবে বিরোধীদের।
