আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে রাজ্যে কী কী পদক্ষেপ করেছে তৃণমূল সরকার, যাবতীয় তথ্য তুলে ধরার জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে চায় তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। এই মর্মে গত সপ্তাহে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। কিন্তু তখন সময় দেননি রাষ্ট্রপতি। যার ফলে ফের দ্রৌপদী মুর্মুর সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি পাঠাল বাংলার শাসকদল।
সদ্যই রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফর নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। তারপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি দেওয়ার জন্য দলের সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা রাজ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন করতে পরিকাঠামো নির্মাণ, জীবনযাত্রায় সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার 'যে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ’গুলি করেছে তা রাষ্ট্রপতিকে জানানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই মতো গত সপ্তাহেই চিঠি দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু রাইসিনা হলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির সময় নেই। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, বাংলা সফরে বিতর্কের জেরেই রাষ্ট্রপতি তৃণমূল সাংসদদের সময় দেননি। প্রথম চিঠিতে সময় না মেলায় এবার দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠাল তৃণমূল। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় চিঠিতে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে– ১২-১৫ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধিদল দেখা করতে চায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। আগামী সপ্তাহের সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সেই চিঠিতে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্মেলনে আমন্ত্রিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিধাননগরের বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে সেই সভার স্থল নির্ধারিত হয়। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ওখানে (বিধাননগরে) অনুষ্ঠান হলে ভালো হতো। ওখানে অনেক জায়গা, অনেক মানুষ আসতে পারতেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন জানি না, এখানে সভার অনুমতি দেয়নি। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।” এই মন্তব্যের পরই দেশের রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগে। পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে ব্যবহার করে রাজনীতির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। এসবের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি তৃণমূলের।
