স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের স্থায়ী সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়ান রাজ্যের বকেয়া নিয়ে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে আধাসেনা-সহ অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।D
জানা গিয়েছে, এদিন প্রিয়াঙ্কা প্রথম মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও পরে বাকিদের উৎসাহে নিজের লেখা নোটে স্বাক্ষর করে লিখিত আকারে কমিটির কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, সোমবার কমিটির বৈঠকে ডেরেক আবারও বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে পশ্চিমবঙ্গের পাওনা বিপুল অর্থের বিস্তারিত তুলে ধরেন। কমিটির চেয়ারম্যান রাধামোহন দাস আগরওয়ালের কাছে চার পাতার একটি চিঠি জমা দেন তিনি। অবিলম্বে রাজ্যের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার দাবিকেই তুলে ধরা হয়েছে এদিনের চিঠিতে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ বাবদ কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মোট প্রায় ৫৩,৬৯৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বিপুল অর্থ না মেটানোয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্গঠন ও ত্রাণের কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। পাশাপাশি আরও একটি চিঠি দিয়ে মহিলাদের নিরাপত্তা খাতে কেন্দ্রের উদাসীনতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। নির্ভয়া তহবিলের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তার একটি টাকাও খরচ হয়নি বলেই চিঠিতে ডেরেক উল্লেখ করেছেন বলেই সূত্রের খবর।
পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ বিপুল অর্থ যে সম্পূর্ণভাবে খরচ করা হচ্ছে না, ২০২৪-'২৫ অর্থবর্ষে মন্ত্রকের বাজেটের প্রায় ৪১ শতাংশ এবং ২০২৫-'২৬ অর্থবর্ষে ৩৬ শতাংশ অর্থ অব্যবহৃত থেকে গেছে সেকথা তুলে ধরা হয় ডেরেক এর চিঠিতেও। চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নেও বড় ফাঁক রয়ে গেছে। 'প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা' প্রকল্পে নির্ধারিত উপভোক্তার প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনও সুবিধা পাননি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লক্ষের বেশি পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা অনেক কম বলে দাবি। রাজ্য পুলিশের আধুনিকীকরণ থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন, সবক্ষেত্রেই বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ।
