মামলা করার অধিকারই নেই ইডির। বুধবার আইপ্যাক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে জোর সওয়াল রাজ্যের। এদিন রাজ্যের তরফে ইডির মামলার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তিনি বলেন, “আমরা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি চাই।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান। তাতেই তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল। তিনি বলেন, “দুই সপ্তাহ আগেই অতিরিক্ত হলফনামা দাখিল করা হয়েছে। মামলা পিছনোর জন্য একটা যুক্তিযুক্ত কারণ থাকা উচিত। এটা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে, একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। আর এখন আবার মামলার (IPAC Case) শুনানিতে দেরি করা হচ্ছে?”
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। ওইদিন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর (I-PAC Office) এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কিছু ফাইল নিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওইসব তাঁর দলের নথিপত্র। তাতে নির্বাচনী রণকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। সেসব ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র করেছে ইডি, এই অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের স্বার্থে তিনি সেসব ফাইল সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর এই পদক্ষেপেই ইডির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়। আজ, বুধবার সেই মামলার শুনানি চলছে শীর্ষ আদালতে।
রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়। ফলে ওদের মামলা করার অধিকার নেই। ইডির কোনও মৌলিক অধিকারই নেই, তাই তার লঙ্ঘনও হতে পারে না।”
এদিন রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়। ফলে ওদের মামলা করার অধিকার নেই। ইডির কোনও মৌলিক অধিকারই নেই, তাই তার লঙ্ঘনও হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ। এখানে মামলা করেছেন ইডির ডিরেক্টরেট। ফলে আইনের মধ্যে থেকেই কোনও ডিরেক্টরেটকে মামলা করতে হবে।” শ্যাম বলেন, “সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও রেফারেন্স শুনানির জন্য ন্যূনতম পাঁচ জন বিচারপতি থাকতে হবে।” এদিকে মুখ্যমন্ত্রী জবাব দেওয়ার সময় চাওয়া প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বলে, "শুনানি হোক। আপনারা (রাজ্য) ইডির পালটা হলফনামা জমা দিতে চাইছেন। আবার মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আপনাদের মূল অবস্থান ঠিক কী?” আদালত সাফ জানিয়েছে, রেকর্ডে যা আছে, সেই অনুযায়ী শুনানি চলবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।”
