৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথের মহাসমারোহেও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না। লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে তৃতীয় সারির আসনে বসতে দেওয়ার অভিযোগে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হল কংগ্রেস। অন্যদিকে বিজেপির তরফে পালটা অভিযোগ তোলা হল, রাষ্ট্রপতির অনুরোধ সত্ত্বেও উত্তর-পূর্ব ভারতের ট্রেড মার্ক উত্তরীয় ‘পাটকা’ পরেননি রাহুল। সবমিলিয়ে গণতন্ত্রের উৎসব মিটলেও তাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরম আকার নিল।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় সোমবার সকালে কুচকাওয়াজের সময়। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বসতে দেওয়া হল তৃতীয় সারির আসনে। অথচ বিজেপি নেতাদের আসন ছিল প্রথমে। এই ঘটনায় প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। রীতি অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা ‘শ্যাডো প্রধানমন্ত্রী’-র সমতুল্য। তাঁকে পিছনের সারিতে জায়গা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতির বিরোধী বলে সরব হয় বিরোধী শিবির। এই ঘটনাকে ‘প্রোটোকল এবং সৌজন্যের চরম অভাব’ বলে তোপ দেগে কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এমন আচরণ কোনও ব্যক্তির অপমান নয়, গোটা দেশের লজ্জা।
দ্বিতীয় ঘটনার সূত্রপাত সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে। অভিযোগ, সেখানে রাষ্ট্রপতির অনুরোধ সত্ত্বেও তা পালন করেননি রাহুল। বিজেপির অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত 'অ্যাট হোম' সংবর্ধনায় রাহুলকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ট্রেড মার্ক উত্তরীয় ‘পাটকা’ দেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নিজে সেটি রাহুলকে পরতে বলেন। সেখানে উপস্থিত বাকিরা উত্তরীয় পরলেও, রাহুল তা পরেননি। যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে কংগ্রেসের দাবি, অনেকেই উত্তরীয় পরেননি। দুটি ছবি সামনে এনে কংগ্রেসের দাবি, রাজনাথ সিং, নির্মলা সীতারামনের গলাতেও উত্তরীয় নেই।
অন্যদিকে আসন বিতর্কে বিজেপির পালটা দাবি, আসন নির্ধারণের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। রাহুল গান্ধীর আশেপাশে এমনকী পিছনেও অনেক সিনিয়র মন্ত্রীরা বসেছিলেন। অথচ তাঁদের কেউ এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ করেননি। বিজেপির দাবি, 'আসলে কংগ্রেসের নেতারা মানুষের স্বার্থের থেকেও নিজের অহংকার, পদমর্যাদাকে বেশি গুরুত্ব দেন।'
