দোরগোড়ায় ভোট। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিলেই কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শামিল হল কংগ্রেস শিবির। এই বৈঠকের দিকে কেবল হাত শিবিরই নয়, গোটা রাজনৈতিক মহলেরই নজর ছিল। কে হবেন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ তা ঠিক হতে পারে ওই বৈঠকে এমনটাই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এই বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটাভুটির পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যদি আদৌ কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট তথা ইউডিএফ ভোটে কিছু করতে পারে।
মনে করা হচ্ছে, রাহুলের এহেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে দলীয় কোন্দল! এই মুহূর্তে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী-মুখ হিসেবে বেছে নিলে সেই কোন্দল আরও বাড়তে পারত। সেকথা ভেবেই কি হাত শিবির আপাতত নির্দিষ্ট কাউকে বাছা থেকে বিরত থাকল? তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে দলের হাই কমান্ড কেরলে নেতাদের ঐক্য বজায় রাখতে বার্তা দিয়েছে। সম্প্রতি কেরলের স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে প্রাথমিক সমীক্ষাতেও সামান্য এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এখন দলের মধ্যে কোনওরকম বিতর্ক ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। আসলে সাম্প্রতিক সময়ে কেরলে কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে নানা কথা শোনা গিয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব তাই রাশ আরও কড়াভাবে ধরতে চাইছে। এদিকে বৈঠকের পর একটি সোশাল মিডিয়া পোস্টে খাড়গে জানিয়ে দেন, কেরলের সাড়ে তিন কোটি মানুষ পরিবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি জোরের সঙ্গে দাবি করেছেন, কংগ্রেস রাজ্যে প্রগতিশীল, উন্নয়নমুখী এবং জনকল্যাণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজ্যে প্রাথমিক সমীক্ষাতে সামান্য এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এখন দলের মধ্যে কোনওরকম বিতর্ক ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না।
এদিকে কংগ্রেস হাই কমান্ডের ডাকা জরুরি বৈঠকে শশী থারুরের মতো নেতা না থাকা নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। চারবারের সাংসদ তথা রাজ্য কংগ্রেসের জনপ্রিয় মুখের অনুপস্থিতির কারণ কী তা এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু রাহুলের আগের সফরে তিনি এতটাই অপমানিত বোধ করছেন বলেই এদিনের বৈঠকে তিনি আসেননি, দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের। গত বছরের মাঝামাঝি মুম্বইয়ের ‘ভোট ভাইব’ নামের এক এজেন্সি একটি সমীক্ষা করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, ২৮.৩ শতাংশ মানুষ শশীকেই দেখতে চান রাজ্যের মসনদে। সেই শশীকে বাদ দিয়েই ভোট বৈতরণি পার হতে চাইছে হাত শিবির, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
